ঢাকা ০৮:৩০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৪, ৬ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অবিবাহিত তরুণীর নামে মাতৃত্বকালীন ভাতা নেন চেয়ারম্যান  শ্রীপুরে পীর-আওলিয়ার মাজার জিয়ারতের মধ্যদিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাজন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পুরস্কার পেলেন কুবির চার শিক্ষার্থী জাতীয় পদক প্রাপ্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমানের দাফন সম্পন্ন শ্রীপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ঢাকার বুকে মাগুরা জেলার প্রতিনিধিত্বকারী এক গর্ব ও অহংকারের নাম মাগুরা লায়ন্স ক্রিকেট ক্লাব শ্রীপুরে সবুজ আন্দোলনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ বিআরটিসির বাসেও চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সৌদির সঙ্গে কাল বাংলাদেশেও হতে পারে ঈদ শ্রীপুরে দেশ ও প্রবাসী সমন্বয় কল্যাণ তহবিলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ
ব্রেকিং নিউজ ::

 ৭কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু: ২১ মার্চ ২০২৪,আবেদন শেষ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪ * এ বছর জনপ্রতি ফিতরার হার সর্বনিন্ম ১১৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৯৭০ টাকা *

আট পদের নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩
  • / ৩৬০৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজে আট পদে নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ স্থগিত চেয়ে আদালতে করা মামলার শুনানির মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান শিক্ষা নীতিমালা লঙ্ঘন করে এক বছরের স্থলে প্রায় আড়াই বছর ধরে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট এবং সেখানকার নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুনানি হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি। এই সুযোগে তিনি এবং কলেজের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম আজীম নিয়োগ-বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আনোয়ারুল স্থানীয় সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)।কলেজ সূত্র জানায়, সম্প্রতি একজন অধ্যক্ষ, চারজন ল্যাব সহকারী, একজন অফিস সহায়ক, একজন অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অধ্যক্ষ ব্যতীত অন্যান্য পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে তা স্থগিত চেয়ে কলেজের দাতা পরিবারের সদস্য আব্দুর রউফ এবং এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুর উপজেলার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।

ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রত্যাশী কায়েস আহাম্মেদ রাঙা দাবি করেন, প্রতিটি পদের জন্য কলেজের সভাপতি আনোয়ারুল ১৩ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

অফিস সহায়ক পদে আবেদন করা রবিন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতি আগের রাতে পছন্দের প্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছেন। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমাদের ভাগ্যে চাকরি জোটেনি।’

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, কলেজের সভাপতি নিজে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন। যাঁরা নিয়োগের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা অফিসকক্ষে বসে ছিলেন।

এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে থাকা গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবই বোঝেন! তারপরও আমার কাছে জিজ্ঞাসা করতে হয়?’

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান হুমকির সুরে বলেন, ‘আপনি কে যে এ বিষয়ে বলতে হবে। এমপির পিএসের সঙ্গে কথা বলেন। সরকারি দলের লোকজন নিয়ে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করলে সাংবাদিকতা দূর হয়ে যাবে।’ নিয়োগে বাণিজ্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কলেজের সভাপতি আনোয়ারুল বলেন, ‘কোথায় টাকা লেনদেন হয় না?’

এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন উপেজলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আট পদের নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ১২:০০:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

গাইবান্ধা প্রতিনিধি 

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা ডিগ্রি কলেজে আট পদে নিয়োগে কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এবং পরিচালনা কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উঠেছে। নিয়োগ স্থগিত চেয়ে আদালতে করা মামলার শুনানির মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান শিক্ষা নীতিমালা লঙ্ঘন করে এক বছরের স্থলে প্রায় আড়াই বছর ধরে অবৈধভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ঘটনায় হাইকোর্টে রিট এবং সেখানকার নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুনানি হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি। এই সুযোগে তিনি এবং কলেজের সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম আজীম নিয়োগ-বাণিজ্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আনোয়ারুল স্থানীয় সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)।কলেজ সূত্র জানায়, সম্প্রতি একজন অধ্যক্ষ, চারজন ল্যাব সহকারী, একজন অফিস সহায়ক, একজন অফিস সহায়ক কাম কম্পিউটার অপারেটর ও একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় ২৩ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধা সরকারি কলেজ কেন্দ্রে অধ্যক্ষ ব্যতীত অন্যান্য পদে নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর আগে তা স্থগিত চেয়ে কলেজের দাতা পরিবারের সদস্য আব্দুর রউফ এবং এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে ২১ সেপ্টেম্বর সাদুল্লাপুর উপজেলার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা করেন।

ল্যাব সহকারী পদে নিয়োগপ্রত্যাশী কায়েস আহাম্মেদ রাঙা দাবি করেন, প্রতিটি পদের জন্য কলেজের সভাপতি আনোয়ারুল ১৩ থেকে ১৬ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।

অফিস সহায়ক পদে আবেদন করা রবিন বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও সভাপতি আগের রাতে পছন্দের প্রার্থীদের মধ্যে প্রশ্নপত্র ফাঁস করে দিয়ে নিয়োগ পরীক্ষা নিয়েছেন। আমরা টাকা দিতে না পারায় আমাদের ভাগ্যে চাকরি জোটেনি।’

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কয়েকজন জানান, কলেজের সভাপতি নিজে পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন। যাঁরা নিয়োগের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা অফিসকক্ষে বসে ছিলেন।

এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্বে থাকা গাইবান্ধা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা সবই বোঝেন! তারপরও আমার কাছে জিজ্ঞাসা করতে হয়?’

নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান হুমকির সুরে বলেন, ‘আপনি কে যে এ বিষয়ে বলতে হবে। এমপির পিএসের সঙ্গে কথা বলেন। সরকারি দলের লোকজন নিয়ে উল্টাপাল্টা প্রশ্ন করলে সাংবাদিকতা দূর হয়ে যাবে।’ নিয়োগে বাণিজ্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কলেজের সভাপতি আনোয়ারুল বলেন, ‘কোথায় টাকা লেনদেন হয় না?’

এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি বলে জানিয়েছেন উপেজলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন।