• সারাদেশ

    এখনও অস্থির মায়ানমার সীমান্ত/ আতংকে আছে স্থানীয়রা

      প্রতিনিধি ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২ , ৮:১৯:১৮ প্রিন্ট সংস্করণ

    আজিজ উদ্দিন।।

    বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষে বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের শেষ সীমান্তে তমব্রু এলাকার সীমান্ত ঘেষে বাংলাদেশ আর মায়ানমারের কাটা তারের বেড়া ঘেষে ভাংকার তৈরি করে সেনাদের অবস্থান কড়াকড়িভাবে নিশ্চিত করছেন মায়ারমার। সীমান্ত জুড়ে টহল দিচ্ছে স্বস্ত্র বাহিনী। তমব্রু সীমান্তে দেখা মিলেছে মায়ারমার সেনা বাহিনীর এই আগ্রাসি চিত্র।

    তাদের এই তৎপরতায় সীমান্তের আশে পাশের বাসিন্দারা আতংকিত। নো-ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থিত রোহিঙ্গারাও খুব বেশি আতংকিত আছে।আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ভঙ্গ করে বাংলাদেশের তমব্রু এলাকার কোনারপাড়া সীমান্তে শূন্য রেখা বরাবর কাটা তারের বেড়া ঘেষে অস্ত্র ও ভারী যন্ত্রপাতি হাতে টহল দিচ্ছে মায়ারমার সেনারা। তাদের হাতে দেখা যাচ্ছে এসএমজি ও রাইফেলস। পাশাপাশি কাঁধে দেখা যায় মটার ও লঞ্চচারের মত দূরে নিক্ষেপ করার মত ভারী অস্ত্র। তারা এবার বিজিবির ৩৩নং সীমানার খুঁটির বিপরীতে ভাংকার কুড়ছে মায়ারমার সেনারা। স্বস্ত্র পাহারা ও বসিয়েছে।গতকাল রোববার সারাদিন দেখা যায় মায়ারমার সেনাবাহিনীর ভয়ভীতিকর এইসব অবস্থান।

    যুদ্ধ পরিস্থিতি ছাড়া সেনাবাহিনীর অবস্থান ৫কিলোমিটারের মধ্যে অবস্থান নেওয়া আন্তর্জাতিক নিয়মে অমান্য হিসেবে চিহৃিতত। আর সীমান্তের শূন্য রেখার মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার মায়ানমারের নাগরিকের অবস্থান। এই অবস্থায় চরম আতংকে আছে রোহিঙ্গারা।

    রোহিঙ্গাদের অনেকে জানান, হেলিকপ্টার নিয়ে গত দু’সপ্তাহের মধ্যে ১০০বার মত টহল দিয়েছে। ভারী অস্ত্র নিয়ে রাস্তাঘাটে তাদের হাটা চলা রয়েছে। রাতদিন এইসব কোন ব্যাপার না, যার যেখানে মনে হয়, সেখানে সেনারা ফায়ার করছে।
    রোহিঙ্গারা আরো জানান, তারা এখন খুব ভয়ে বেশি আতংকে দিন যাপন করছে। ভয়ে কেউ ঘর বাড়ি থেকে বের হতে পারছে না। কষ্টে জীবন যাপন করতেছে বলে জানান মায়ারমারের রোহিঙ্গারা।

    গত দুই সপ্তাহ ধরে রোহিঙ্গাদের পাশাপাশি স্থানীয় বাঙালীরাও খুব বেশি জীবন সংকার মধ্যে রয়েছে। ইতিমধ্যে লোকালয়ে এসে পড়েছে মায়ারমার সেনা বাহিনীর চারটি অবিস্ফোরিত মটরসেল।

    স্থানীয়দের অনেকে জানান, আমরা এখন অনেক ভয়ে আছি। আগে কখনও এই রকম ভয়ে ছিলাম না। মটরসেল গুলো এসে পড়ার পর আমরা ভয়ে দিন যাপন করতেছি। এমন কি বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছি। আমরাও বাহিরে কাজ করা বন্ধ করে দিয়ে ঘরে বাড়িতে পরিবার পরিজন নিয়ে দিন যাপন করতেছি। কখন যে, মটরসেল গুলো বিস্ফোরিত হয় সেই ভয়ে গরু-ছাগলও ঘোয়াল ঘরে বেঁধে রেখেছি।

    স্থানীয় মহিলারা বলেন, হেলিকপ্টার তিনবার এসে বোম ফেলেছে, সেজন্য আমরা ঘর থেকে বের হতে পারতেছি না, আগে এমন ভয় লাগেনি। এখন বোম পরার পর থেকে ভয় কাজ করতেছে, তাই আমরা স্বামী সন্তানদের নিয়ে ঘরে অবস্থান করতেছি। বার্মা থেকে প্রতিদিন হেলিকপ্টারে বোম মারতেছে।

    ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যার এ.কে.এম জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, আমার ইউনিয়ন পরিষদ থেকে এখনও কোন ঘোষনা দেওয়া হয়নি। তারা এমনিতে ঘরবাড়ি থেকে বাহির হচ্ছে না। আমরা তাদেরকে বারণও করেনি এবং নিষেধও করেনি। তারা তাদের নিজের ইচ্ছ্বায় ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করেছে নিরাপত্তার জন্য। তিনি আরো জানা, পরিস্থিতি এমন থাকবে না, স্বাভাবিক হয়ে গেলে যার যার কর্ম, সে সে করতে পারবে আগের মত। এমনটা জানান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সীমান্তভর্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান।

    বান্দরবান উপজেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ৩নং ঘুমধুম ইউনিয়র পরিষদ লোকালয়ে ২৫হাজারের বেশি বাংলাদেশি স্থানীয় মানুষের বসবাস। ২০১৭সালে মায়ারমার থেকে পালিয়ে আসা প্রাণে বেঁচে যাওয়া সাড়ে ৪হাজারের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস ঘুমধুম কোনারপাড়া সীমান্তে অবস্থান রয়েছে।

    ২০১৭সালে সীমান্তে গুলাগুলি বা গুলাবর্ষন হলে এর কিছুদিন পর মায়ারমার সেনাবাহিনী তার দেশের জনগণের উপর নির্যাতন শুরু করে। যার ফলে,
    বাংলাদেশে পালিয়ে আসে প্রাণে বাঁচার জন্য।
    আবারও তারা আগের মত গত দুই সপ্তাহে ধরে গুলাগুলি ও গুলাবর্ষন করেছে কিনা তা সন্দিহান। জনপ্রতিনিধিসহ সীমান্তভর্তি স্থানীয়ও রোহিঙ্গাে বাসিন্দাদের।

    এইদিকে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এইসব গুলাগুলি, গুলিবর্ষন ও মটরসেল বাংলাদেশে প্রবেশ করার কারণে মায়ারমার সরকারের বাংলাদেশে অবস্থিত রাষ্ট্রদূতকে ১৫দিনের মাথায় তিনবার তলব করেছে মন্ত্রনালয়। মায়ারমার রাষ্ট্রদূতকে কড়া বার্তা প্রদান করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়।

    http://এইচ/কে

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ