ঢাকা ০৮:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৪, ২ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শ্রীপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ঢাকার বুকে মাগুরা জেলার প্রতিনিধিত্বকারী এক গর্ব ও অহংকারের নাম মাগুরা লায়ন্স ক্রিকেট ক্লাব শ্রীপুরে সবুজ আন্দোলনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ বিআরটিসির বাসেও চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সৌদির সঙ্গে কাল বাংলাদেশেও হতে পারে ঈদ শ্রীপুরে দেশ ও প্রবাসী সমন্বয় কল্যাণ তহবিলের ঈদ সামগ্রী বিতরণ বেইলি রোডে অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানাল ফায়ার সার্ভিস চৌদ্দগ্রামে আলকরা প্রবাসী কল্যাণ’র উদ্যাগে ইমাম খতিবদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত ফ্রিতে সিম কিনে বিপাকে অর্ধশত পরিবার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ছাত্র উপদেষ্টার দায়িত্ব হস্তান্তর
ব্রেকিং নিউজ ::

 ৭কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু: ২১ মার্চ ২০২৪,আবেদন শেষ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪ * এ বছর জনপ্রতি ফিতরার হার সর্বনিন্ম ১১৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৯৭০ টাকা *

ঢাকায় ১টি ক’ব’রের দাম দেড় কোটি টাকা,তবুও সারাজীবনের জন্য নয়

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪
  • / ৩৫৯২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আফছানা মিমি৷৷ 

৮ ফিট বাই ৪ ফিটের একটি কবরের দাম দেড় কোটি টাকা। তবুও সারাজীবনের জন্য নয়, মাত্র ২৫ বছর পর একই কবরে জায়গা হবে অন্য কারো।ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে কবরস্থান আছে মাত্র ৯টি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় আছে ছয়টি। এসব কবরস্থানে নতুন করে আর জায়গা বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাই মরদেহ দাফনে জায়গার স্বল্পতার কারণে এবং কবর সংরক্ষণে নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কবর সংরক্ষণ ফি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অঞ্চলভেদে রাজধানী ঢাকায় একটি কবরের দাম সর্বো‍চ্চ দেড় কোটি টাকা। মাসিক হিসেবে ধরলে ভাড়া গুনতে হয় প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা। দেড় কোটি টাকার এই কবর আগে বিক্রি হতো ৪৫ লাখ টাকায়। কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই দাম বাড়িয়ে তিনগুণ করা হয়েছে। তবে শুধু টাকা থাকলেই পাওয়া যাবে না এই কবর। লাগবে উচ্চপর্যায়ের তদবিরও। মাসে ৫০ হাজার টাকা হারে কবর ভাড়া করলেও শেষ পর্যন্ত একই কবরে দাফন করা হবে অন্য কাউকে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত বনানী কবরস্থান চালু হয় ১৯৭৩ সালে। ১০ একর আয়তনের কবরস্থানটিতে ২২ হাজার কবর রয়েছে। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এখানে কাউকে কবর দিতে গেলে ১৫ লাখ টাকা খরচ হতো। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কবরস্থানের জায়গা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল উত্তর সিটি করপোরেশন। ২০০৮ সাল থেকে পুনরায় বিভিন্ন মেয়াদে কবর সংরক্ষণ শুরু করে ডিএনসিসি।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, কবর সংরক্ষণের নিয়ম চালু করার পর থেকে ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ ফি ছিল ২৪ লাখ টাকা। কিন্তু গত বছর সেটা বাড়িয়ে করা হয় ১ কোটি টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য ৪৫ লাখ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা, যা মাসিক ভাড়া হিসেবে ধরলে প্রতি মাসে দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে উত্তরা ৪নং সেক্টরে ১৫ বছর কবর সংরক্ষণের জন্য ফি ছিল মাত্র ৬ লাখ টাকা, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য করা হয়েছে ১ কোটি টাকা। উত্তরা ৬নং সেক্টরে ১৫ বছরের কবর সংরক্ষণ ফি ছিল ৬ লাখ টাকা, এখন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে। আর ২৫ বছরের জন্য ১১ লাখ টাকা থাকলেও এখন গুনতে হবে ৭৫ লাখ টাকা।

মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ছিল ৬ লাখ টাকা, এখন তার জন্য দিতে হয় ২০ লাখ টাকা। ২৫ বছরের জন্য এই কবরস্থানে আগে ছিল ১১ লাখ টাকা, বর্তমানে তার জন্য খরচ করতে হবে ৩০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া রায়েরবাজার কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ ফি ছিল ৬ লাখ টাকা এখন বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য ১১ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধনাঢ্য পরিবারের কেউ মারা গেলে প্রিয়জনের কবর সংরক্ষণ করতে চান অনেকে। যার ফলে আর কোনো জায়গা থাকছে না কবরস্থানে। তাই কবর সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত করতেই টাকার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। যদিও সংরক্ষণ করা এই কবরে পুনরায় কবর দিতে গেলে কবরস্থান ভেদে দিতে হয় নতুন ফি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ঢাকায় ১টি ক’ব’রের দাম দেড় কোটি টাকা,তবুও সারাজীবনের জন্য নয়

আপডেট সময় : ০৭:৪৬:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

আফছানা মিমি৷৷ 

৮ ফিট বাই ৪ ফিটের একটি কবরের দাম দেড় কোটি টাকা। তবুও সারাজীবনের জন্য নয়, মাত্র ২৫ বছর পর একই কবরে জায়গা হবে অন্য কারো।ঢাকায় দুই সিটি করপোরেশনের অধীনে কবরস্থান আছে মাত্র ৯টি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় তিনটি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় আছে ছয়টি। এসব কবরস্থানে নতুন করে আর জায়গা বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাই মরদেহ দাফনে জায়গার স্বল্পতার কারণে এবং কবর সংরক্ষণে নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কবর সংরক্ষণ ফি কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

অঞ্চলভেদে রাজধানী ঢাকায় একটি কবরের দাম সর্বো‍চ্চ দেড় কোটি টাকা। মাসিক হিসেবে ধরলে ভাড়া গুনতে হয় প্রতি মাসে ৫০ হাজার টাকা। দেড় কোটি টাকার এই কবর আগে বিক্রি হতো ৪৫ লাখ টাকায়। কিন্তু গত বছর হঠাৎ করেই দাম বাড়িয়ে তিনগুণ করা হয়েছে। তবে শুধু টাকা থাকলেই পাওয়া যাবে না এই কবর। লাগবে উচ্চপর্যায়ের তদবিরও। মাসে ৫০ হাজার টাকা হারে কবর ভাড়া করলেও শেষ পর্যন্ত একই কবরে দাফন করা হবে অন্য কাউকে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনভুক্ত বনানী কবরস্থান চালু হয় ১৯৭৩ সালে। ১০ একর আয়তনের কবরস্থানটিতে ২২ হাজার কবর রয়েছে। ২০০৫ সাল পর্যন্ত এখানে কাউকে কবর দিতে গেলে ১৫ লাখ টাকা খরচ হতো। ২০০৫ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কবরস্থানের জায়গা সংরক্ষণ প্রক্রিয়া বন্ধ করে দিয়েছিল উত্তর সিটি করপোরেশন। ২০০৮ সাল থেকে পুনরায় বিভিন্ন মেয়াদে কবর সংরক্ষণ শুরু করে ডিএনসিসি।

তথ্যসূত্রে জানা যায়, কবর সংরক্ষণের নিয়ম চালু করার পর থেকে ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ ফি ছিল ২৪ লাখ টাকা। কিন্তু গত বছর সেটা বাড়িয়ে করা হয় ১ কোটি টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য ৪৫ লাখ থেকে এক লাফে বাড়িয়ে করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা, যা মাসিক ভাড়া হিসেবে ধরলে প্রতি মাসে দাঁড়ায় ৫০ হাজার টাকা।

অন্যদিকে উত্তরা ৪নং সেক্টরে ১৫ বছর কবর সংরক্ষণের জন্য ফি ছিল মাত্র ৬ লাখ টাকা, এখন তা বাড়িয়ে করা হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য করা হয়েছে ১ কোটি টাকা। উত্তরা ৬নং সেক্টরে ১৫ বছরের কবর সংরক্ষণ ফি ছিল ৬ লাখ টাকা, এখন খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখে। আর ২৫ বছরের জন্য ১১ লাখ টাকা থাকলেও এখন গুনতে হবে ৭৫ লাখ টাকা।

মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য ছিল ৬ লাখ টাকা, এখন তার জন্য দিতে হয় ২০ লাখ টাকা। ২৫ বছরের জন্য এই কবরস্থানে আগে ছিল ১১ লাখ টাকা, বর্তমানে তার জন্য খরচ করতে হবে ৩০ লাখ টাকা।

এ ছাড়া রায়েরবাজার কবরস্থানে ১৫ বছরের জন্য সংরক্ষণ ফি ছিল ৬ লাখ টাকা এখন বাড়িয়ে করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। আর ২৫ বছরের জন্য ১১ লাখ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৫ লাখ টাকা।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধনাঢ্য পরিবারের কেউ মারা গেলে প্রিয়জনের কবর সংরক্ষণ করতে চান অনেকে। যার ফলে আর কোনো জায়গা থাকছে না কবরস্থানে। তাই কবর সংরক্ষণে নিরুৎসাহিত করতেই টাকার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে। যদিও সংরক্ষণ করা এই কবরে পুনরায় কবর দিতে গেলে কবরস্থান ভেদে দিতে হয় নতুন ফি।