• অন্যান্য

    নড়াইলে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত

      প্রতিনিধি ১৩ মার্চ ২০২৩ , ৯:৩৯:৩৩ প্রিন্ট সংস্করণ

    নড়াইল জেলা প্রতিনিধি।

    নড়াইলে বীরশ্রেষ্ঠ নূরমোহাম্মদ লাঠিখেলা ও সাংস্কৃতিক ক্লাবের ৪র্থ বার্ষিক উপলক্ষ্যে লাঠি উৎসব ২০২৩ অনুষ্ঠিত। নড়াইল সদর উপজেলার বাশগ্রাম ইউনিয়নের গোপালপুর স্কুল মাঠ প্রাঙ্গনে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে ।

    এ খেলায় নড়াইল সহ কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনার বেশ কয়েকটি দুল অংশ গ্রহণ করে। খেলায় মোট 0৭টি দল অংশগ্রহন করে। তারা হলেন, বীরশ্রেষ্ঠ নূরমোহাম্মদ লাঠিয়াল ছোট দল ও বড় দল, কুষ্টিয়া লাঠিয়াল দল, মাধবপাশ লাঠিয়াল দল, খুলনা লাখোয়াটি লাঠিয়াল দল, নাওলি অভয়নগর লাঠিয়াল দল ও শৈলকুপা লাঠিয়াল দল।

    উক্ত খেলায় উপস্থিত ছিলেন, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, জেলা প্রশাসক নড়াইল, মোসাঃ সাদিরা খাতুন, পুলিশ সুপার, লুবনা মরিয়ম, সাধারণ সম্পাদক, এশিয়া মহাদেশ নৃত্য ফেডারেশন, আঞ্জুমান আরা, মেয়র নড়াইল পৌরসভা, মোঃ হামিদুর রহমান, জেলা কালচার অফিস, মোঃ সাইফুর রহমান হিলু, বীর মুক্তিযোদ্ধা, মোঃ তোফায়েল মাহমুদ তুফান, ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা পরিষদ, মোঃ রফিকুল ফকির, চেয়ারম্যান, বাশগ্রাম ইউপি, মলয় কুমার কুন্ডু, সভাপতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, মোল্যা সোহেল সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা লাঠিয়াল দল। এছাড়াও সাংবাদিক, এলাকার জনপ্রতিনিধি, গন্যমাণ্য ব্যক্তিসহ আরো অনেকে।

    অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বর্তমান হোয়াটসঅ্যাপ, মেসেঞ্জারের সময়। সবাই এখন মোবাইল গেইম, ইন্টারনেট নিয়ে ব্যস্ত। এ লাঠিখেলা শুধু লাঠি খেলা নয় এটা একটা আত্মরক্ষার খেলা।

    যারা এসবকে পিছনে রেখে এ খেলাটিকে ধরে রেখেছে তাদের প্রতি আমাদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। তারা বলেন এ খেলাটা ধরে রাখার জন্য শুধু বিভিন্ন মাধ্যমে দল ভিত্তিক নয় যদি সম্ভব হয় স্কুল- কলেজ পর্যায়ে এ একটা পাঠ রাখা যায় তাহলে এ খেলাটি ধরে রাখা সম্ভব । তারা বলেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী শুধু লাঠি খেলা নয় এমন অনেক খেলা ও অনুষ্ঠান এখন আর দেখা যায় না বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এ খেলা ধরে খু্ব বেশি প্রয়োজন।

    উপস্থিত বক্তব্যে আরো বলেন, এ খেলাটি হয় মূলত গ্রামে যেখানে খেলোয়াড়দের জন্য নেই কোনো ক্লাব বা বসার জায়গা, নেই কোনো যান্ত্রিক বাহন যাতে এরা বাইলে কোথাও খেলতে যাবে। বক্তব্যে মোল্যা সোহেল খেলোয়াড়দের সুবিধার্থে জেলা প্রশাসকের নিকট খেলোয়াড়দের জন্য সরকারী জমিতে একটা ছোট খাটো ঘর এবং খেলোয়াড়রা যাতে সুন্দরভাবে বাইরে কোথাও খেলতে যেতে পারে তার জন্য একটি যানবাহনের দাবী করেন।

    কয়েকজন খেলোয়াড়দের সাথে কথা বল্লে তারা বলেন, আমার বয়স ৭০ আমি প্রায় ১৫ বছর এ খেলাটি খেলছি। সকল কাজের মাঝে ভালোবেসে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলাটি যাতে টিকিয়ে রাখতে পারি তার জন্য খেলে যাচ্ছি।

    খেলার বিষয়ে স্কুল পড়ুয়া এক খেলোয়াড় বলে, আমার এ খেলাটি খুব ভালো লাগে আমি পড়াশোনার পাশাপাশি এ খেলাটি খেলছি। শুধু আমি আমার গ্রামে নয় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে খেলার সুযোগ হয়েছে এতে আমি খুবই আনন্দিত।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ