• জাতীয়

    মধুমতি ও তৃতীয় শীতলক্ষ্যা/ সেতুর উদ্বোধন | বাংলাদেশ

      প্রতিনিধি ১০ অক্টোবর ২০২২ , ১০:৩৫:১৬ প্রিন্ট সংস্করণ

    দেশের প্রথম ছয় লেনের দৃষ্টিনন্দন মধুমতি সেতু এবং নারায়ণগঞ্জে তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

    সোমবার (১০ অক্টোবর) তিনি দুপুর ১টা ১০ মিনিটে তার কার্যালয়ের চামেলী হল থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই দুই সেতুর উদ্বোধন করেন তিনি।

    ৯৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে মধুমতি নদীর ওপর ৬৯০ মিটার দীর্ঘ মধুমতি সেতুটি নির্মিত হয়েছে যা স্থানীয়ভাবে কালনা সেতু নামে পরিচিত।

    ২৭ দশমিক ১ মিটার চওড়া সেতুটিতে চারটি উচ্চ গতির লেন ৪ দশমিক ৩০ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ রোড এবং দুটি সার্ভিস লেনসহ ছয়টি লেন রয়েছে।

    সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের ক্রস বর্ডার রোড নেটওয়ার্ক ইম্প্রুভমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ সেতু নির্মাণ হয়েছে।

    এটি নড়াইল, গোপালগঞ্জ, খুলনা, মাগুরা, সাতক্ষীরা, চুয়াডাঙ্গা, যশোর এবং ঝিনাইদহ জেলাকে সংযুক্ত করেছে।

    প্রকল্প কর্মকর্তাদের মতে, সেতুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের মানুষ দ্রুত সড়ক  যোগাযোগ সুবিধা পাবে। কারণ সেতুটি কালনাঘাট থেকে রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরত্ব কমিয়ে দেবে।

    প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী উপজেলা এবং নড়াইল জেলার অন্তর্গত লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে মধুমতি সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।

    এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর ও বন্দর উপজেলাকে উত্তর-দক্ষিণে ভাগ করেছে শীতলক্ষ্যা নদী। নদী পার হয়ে প্রতিদিন কয়েক লাখ মানুষ নারায়ণগঞ্জ শহর ও বন্দরে যাতায়াত করেন। দুই পারের যোগাযোগ সহজ করতে বহু বছর ধরেই শীতলক্ষ্যার ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি করেছিলেন দুই পারের বাসিন্দারা। অবশেষে অপেক্ষার অবসান হলো। উদ্বোধন হলো বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটিও।

    ১ দশমিক ২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটির নামকরণ করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের নামে। ইতিমধ্যে ‘নাসিম ওসমান সেতু’ নাম দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ।

    এই সেতু প্রকল্প ২০১০ সালে একনেকে অনুমোদন পেলেও ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি নির্মাণকাজ শুরু হয়। সেতু নির্মাণে ৬০৮.৫৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ২৬৩.৩৬ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকারের তহবিল থেকে এবং ৩৪৫.২০ কোটি টাকা সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) থেকে এসেছে।

    ওয়াকওয়েসহ সেতুটিতে ৩৮টি স্প্যান রয়েছে। পাঁচটি নদীতে এবং ৩৩টি পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে। হাঁটার পথসহ সেতুটির প্রস্থ ২২.১৫ মিটার। এছাড়া, ছয়লেনের টোল প্লাজা এবং দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ অ্যাপ্রোচ রোডও নির্মাণ করা হচ্ছে।

    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, ঢাকায় নিযুক্ত জাপান ও সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ