• সারাদেশ

    মিয়ানমারের কারাগারে/ মহেশখালীর ১০ যুবক

      প্রতিনিধি ১০ অক্টোবর ২০২২ , ৯:১০:০১ প্রিন্ট সংস্করণ

    আজিজ উদ্দিন।।

    সাগরপথে কম খরচে মালেশিয়া নিয়ে ভাগ্যের চাকা ঘুরানোর স্বপ্ন দেখে এখন মিয়ানমারের কারাগারে মানবেতর জীবনাযাপন করছে কক্সবাজার মহেশখালী উপজেলার ১০ যুবক।

    পরিবারের অভাবকে পুঁজি করে মানবপাচার চক্রের সদস্যরা তাদের মালেশিয়ায় নিয়ে লাখ লাখ টাকা উপার্জনের আশা দেখান। সেখানে পৌঁছেই বকেয়া টাকা পরিশোধের সুযোগ আর কয়েক বছরে বৈধতা মিলিয়ে দেওয়ার টোপ গিলিয়ে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে তাদের।

    অভিযোগ উঠেছে, গত মাসের শুরুর দিকে স্থানীয় দেবেঙ্গা পাড়ার মানবপাচারকারী চক্রের দালাল সরফরাজ প্রলোভন দেখিয়ে এই ১০ কিশোর ও যুবককে নিয়ে যায়। তার এক সহযোগী র‌্যাবের হাতে ধরা পড়লেও লাপাত্তা রয়েছেন সরফরাজ।

    যাত্রাপথে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়লে সে দেশের আইনশৃঙ্খলা-বাহিনী তাদের ধরে নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন সূত্রে তাদের পরিবারের সদস্যরা নিশ্চিত হয়েছেন। বর্তমানে তারা মংড়ুর কারাগারে আটক রয়েছেন। ইতোমধ্যে তাদের ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিকের দ্বারস্থ হয়েছেন তারা।

    আটক ১০ জন হলেন— বড় মহেশখালীর মুন্সির ডেইল এলাকার নুরুল হকের ছেলে টিপু আলম (১৯), মৃত হোছনের ছেলে মো. পারভেজ (২০), আবুল কালামের পুত্র সফি আলম (১৮), কামাল পাশার পুত্র এখলাছ মিয়া (২১), রাহামত উল্লাহ পুত্র মিজানুর রহমান (১৯), দেবাঙ্গা পাড়া এলাকার আনছারুল হকের পুত্র সাকের উল্লাহ (১৭) ৭ম শ্রেণীর ছাত্র সেই, আব্দু শুক্কুরের কলেজ পড়ুয়া পুত্র ছালামত উল্লাহ (২১), বখতিয়া মিয়ার পুত্র ফয়সাল (১৯), ছৈয়দ কবিরের পুত্র মো: মাহিম (২১), আব্দু ছামদের পুত্র রাকিবুল ইসলাম। এর মধ্যে স্কুল ছাত্র ও কলেজ পড়ুয়া রয়েছেন দুই জন।

    সোমবার (১০ অক্টোবর) সন্তানকে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সাংসদ আশেক উল্লাহ রফিকের কাছে সহযোগিতা চাইতে আসেন দেবেঙ্গা পাড়ার ছৈয়দ কবির। তার ছেলে মো. মাহিমও এখন মিয়ানমারের কারাগারে আটক রয়েছেন।

    ছৈয়দ কবির বলেন, ‘বেশি আয়ের লোভ দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় চাকরী দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের এলাকার ১০ যুবক ও কিশোরকে নিয়ে যায় দালাল চক্র। পাচার করতে গিয়ে মিয়ানমারের সীমানা থেকে সে দেশের জলসীমা থেকে নৌ-পুলিশ তাদের নিয়ে গেছে।’

    ছৈয়দ কবির জানান, নিয়ে যাওয়ার বহুদিন পর্যন্ত ১০ জনের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ধরে নিয়েছিলাম ওরা বেঁচে নেই। কিন্তু কিছুদিন আগে টেকনাফের কিছু জেলের মাধ্যমে নিশ্চিত হয়েছেন ওই ১০ জন মিয়ানমারে আটক আছেন। আমার ছেলেকে ওরা লোভ দেখিয়ে নিয়ে গেছে। আমি বারণ করেছিলাম না যাওয়ার জন্য। সরফরাজ আমার ছেলেকে চাকরি দিবে, ভালো বেতনের এমনটা লোভ দেখিয়ে নিয়েগেছে। আমার ছেলেকে ফিরে পেতে আমাদের এমপি’র কাছে এসেছি। আমি শুনেছি আমাদের এমপি ভারত কারাগার থেকে অনেকজনকে ছাড়িয়ে এনেছে। আমিও আমার ছেলেকে ফিরে পেতে সকাল সকাল এমপির বাসায় এসেছি। আমাদের এমপি আমার কথা শুনে আমাকে বলেছে মন্ত্রনালয়ে কথা বলবেন।

    পাচারের শিকারদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, উপজেলার বড় মহেশখালীর দেবেঙ্গা পাড়ার হাবিব উল্লাহ পুত্র মানব পাচারকারী সরফরাজের নেতৃত্বে এলাকার একটি মানবপাচারকারী চক্র ওই ১০ জনকে ফুঁসলিয়ে প্রথমের কক্সবাজার শহরের আনেন। তারপর তাদেরকে জোর করে বোটে করে পাচার করে।

    http://এইচ/কে

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ