ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
দুর্গাপুরে আওয়ামী লীগের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত অবিবাহিত তরুণীর নামে মাতৃত্বকালীন ভাতা নেন চেয়ারম্যান  শ্রীপুরে পীর-আওলিয়ার মাজার জিয়ারতের মধ্যদিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করলেন চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী রাজন যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের পুরস্কার পেলেন কুবির চার শিক্ষার্থী জাতীয় পদক প্রাপ্ত সাবেক প্রধান শিক্ষক কাজী ফয়জুর রহমানের দাফন সম্পন্ন শ্রীপুরে ঈদ পুনর্মিলনী ক্রিকেট টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত ঢাকার বুকে মাগুরা জেলার প্রতিনিধিত্বকারী এক গর্ব ও অহংকারের নাম মাগুরা লায়ন্স ক্রিকেট ক্লাব শ্রীপুরে সবুজ আন্দোলনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ বিআরটিসির বাসেও চলছে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় সৌদির সঙ্গে কাল বাংলাদেশেও হতে পারে ঈদ
ব্রেকিং নিউজ ::

 ৭কলেজের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষার আবেদন শুরু: ২১ মার্চ ২০২৪,আবেদন শেষ: ২৫ এপ্রিল ২০২৪ * এ বছর জনপ্রতি ফিতরার হার সর্বনিন্ম ১১৫ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৯৭০ টাকা *

শালা নয় ছেলে বলেই সম্বোধন করেন হেনস্তার শিকার হওয়া সেই কুবি শিক্ষক | বাংলাদেশের বার্তা 

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ৩৫৯৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফারজানা রহমান সম্পা, কুবি প্রতিনিধি:

সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্ক বির্তকের সময় শিক্ষক অমিত দত্ত শিক্ষার্থীকে ‘শালা বলেছেন’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা উঠেছে। তবে ভিডিওতে তিনি ছেলে বলে শিক্ষার্থীদের সম্বোধন করেছেন বলেই শোনা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী এম. আনিছুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যেসব কর্মকান্ড হচ্ছে তা অবিশ্বাস্য। অমিতকে আমি খুব ভালো করে চিনি। ‘এই ছেলে’ এটা সে হরহামেশাই বলে থাকে।

এ ঘটনার সময় আরো উপস্থিত ছিলেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি অমিতকে ‘ছেলে’ বলতে শুনেছি। নিউজে যেই শব্দ চয়ন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেটা যদি না বোঝার কারণে হয়ে থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু যদি উদ্দেশ্যমমূলক হয়ে থাকে তাহলে এটা দুঃখজনক।’

ঘটনাস্থলে আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি অমিত ‘এই ছেলে’ বলেছে। যারা তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে তারা একটি অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করছে মাত্র।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি সচেতনভাবে ছেলেই বলেছি, অন্য কোনো শব্দ বলিনি। আমাকে জড়িয়ে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব শব্দ চয়ন করা হয়েছে তা সম্পূর্ন গুজব। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো খেয়াল করে দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতারা হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করে শিক্ষক অমিত দত্তকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের টাইমলাইনে দেয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আদেশ দেয়া হয়েছে স্যারকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতে। না হলে হল থেকে বের করে দিবে বলে হুমকিও প্রদান করেছে।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজী নজরুল ইসলাম হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এসব পোস্ট না দিলে হলে থাকতে দিবে না বলে হুমকি দিয়েছেন বড় ভাইরা। তাই বাধ্য হয়ে স্যারকে নিয়ে পোস্ট দিতে হয়েছে।’

এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘আমি এই বিষয় সম্পর্কে অবগত নই। কেউ যদি সম্পর্কের জায়গা থেকে বলে থাকে সেটা সম্পর্কে আমি জানি না। তবে এরকম কোন সাংগঠিনক আদেশ দেয় হয়নি।’

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে রেজা গ্রুপ ও ইলিয়াস গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। দ্বন্দ্ব নিরসনে আলোচনায় বসে প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রশাসন।

আলোচনার এক পর্যায়ে ইলিয়াস গ্রুপের ছাত্রলীগের নেতারা উত্তেজিত হয়ে রেজা গ্রুপের নেতাকর্মীদের রুম থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে ঘটনা সামাল দিতে এগিয়ে যান নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত। এসময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘এই ছেলে আমি কে?’ এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এনায়েত উল্লাহ প্রত্ত্যুতরে বলে উঠেন ‘শিক্ষক’।

http://এইচ/কে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

শালা নয় ছেলে বলেই সম্বোধন করেন হেনস্তার শিকার হওয়া সেই কুবি শিক্ষক | বাংলাদেশের বার্তা 

আপডেট সময় : ০৩:৫৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

ফারজানা রহমান সম্পা, কুবি প্রতিনিধি:

সম্প্রতি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত এবং ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের মধ্যে তর্ক বির্তকের সময় শিক্ষক অমিত দত্ত শিক্ষার্থীকে ‘শালা বলেছেন’ বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কথা উঠেছে। তবে ভিডিওতে তিনি ছেলে বলে শিক্ষার্থীদের সম্বোধন করেছেন বলেই শোনা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান কাজী এম. আনিছুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে যেসব কর্মকান্ড হচ্ছে তা অবিশ্বাস্য। অমিতকে আমি খুব ভালো করে চিনি। ‘এই ছেলে’ এটা সে হরহামেশাই বলে থাকে।

এ ঘটনার সময় আরো উপস্থিত ছিলেন গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমি অমিতকে ‘ছেলে’ বলতে শুনেছি। নিউজে যেই শব্দ চয়ন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে সেটা যদি না বোঝার কারণে হয়ে থাকে তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু যদি উদ্দেশ্যমমূলক হয়ে থাকে তাহলে এটা দুঃখজনক।’

ঘটনাস্থলে আরো উপস্থিত ছিলেন অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. স্বপন চন্দ্র মজুমদার। তিনি বলেন, ‘আমি শুনেছি অমিত ‘এই ছেলে’ বলেছে। যারা তাকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হেনস্তা করার চেষ্টা করছে তারা একটি অপরাধকে আড়াল করার চেষ্টা করছে মাত্র।’

নৃবিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত এ ব্যাপারে বলেন, ‘আমি সচেতনভাবে ছেলেই বলেছি, অন্য কোনো শব্দ বলিনি। আমাকে জড়িয়ে সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব শব্দ চয়ন করা হয়েছে তা সম্পূর্ন গুজব। ভাইরাল হওয়া ভিডিওগুলো খেয়াল করে দেখলে বিষয়টি স্পষ্ট হবে।’

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের নেতারা হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের চাপ প্রয়োগ করে শিক্ষক অমিত দত্তকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের টাইমলাইনে দেয়ার ক্ষেত্রে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ তুলেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের আদেশ দেয়া হয়েছে স্যারকে নিয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতে। না হলে হল থেকে বের করে দিবে বলে হুমকিও প্রদান করেছে।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাজী নজরুল ইসলাম হলের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এসব পোস্ট না দিলে হলে থাকতে দিবে না বলে হুমকি দিয়েছেন বড় ভাইরা। তাই বাধ্য হয়ে স্যারকে নিয়ে পোস্ট দিতে হয়েছে।’

এ ব্যাপারে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন সবুজ বলেন, ‘আমি এই বিষয় সম্পর্কে অবগত নই। কেউ যদি সম্পর্কের জায়গা থেকে বলে থাকে সেটা সম্পর্কে আমি জানি না। তবে এরকম কোন সাংগঠিনক আদেশ দেয় হয়নি।’

উল্লেখ্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে কক্ষ দখলকে কেন্দ্র করে রেজা গ্রুপ ও ইলিয়াস গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। দ্বন্দ্ব নিরসনে আলোচনায় বসে প্রক্টরিয়াল বডি ও হল প্রশাসন।

আলোচনার এক পর্যায়ে ইলিয়াস গ্রুপের ছাত্রলীগের নেতারা উত্তেজিত হয়ে রেজা গ্রুপের নেতাকর্মীদের রুম থেকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করলে ঘটনা সামাল দিতে এগিয়ে যান নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও সহকারী প্রক্টর অমিত দত্ত। এসময় পরিস্থিতি শান্ত করতে গিয়ে বলেন, ‘এই ছেলে আমি কে?’ এরপর শিক্ষার্থীদের মধ্যে এনায়েত উল্লাহ প্রত্ত্যুতরে বলে উঠেন ‘শিক্ষক’।

http://এইচ/কে