ঢাকা ০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
চৌদ্দগ্রামে নামাজরত অবস্থায় ইমামকে কুপিয়ে জখম রাখাইনে সংঘাত ও সেন্টমার্টিন পরিস্থিতি | ব্রিঃ জেঃ হাসান মোঃ শামসুদ্দীন (অবঃ) নীলফামারীতে মাদ্রাসার শিক্ষককে কুপিয়ে জখম  চৌদ্দগ্রামে দাফনের ৭ দিন পর বাড়ি ফিরলেন রোকসানা নামের এক তরুণী নৌকা বিকল হয়ে মেঘনায় আটকে ছিল সাত ছাত্র, ৯৯৯ নম্বরে ফোন কলে উদ্ধার শ্রীপুরে ক্যাপিটেশন প্লান্টের চেক বিতরণ কথা বলছে’ গাছ, ভেসে আসছে নারী কণ্ঠের আর্তনাদ বাইশরশি বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে জাকের পার্টির ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত চৌদ্দগ্রামে গাঁজা-ইয়াবা উদ্ধার, কথিত সাংবাদিকসহ আটক ১৩ স্বাধীনতার আগে মারা যাওয়া ব্যক্তিকে ২০১৫ সালে ঋণ দিয়েছে কৃষি ব্যাংক

হেনস্তার ঘটনায় উপাচার্যের কাছে বিচার চাইলেন জবির সেই অধ্যাপক

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০২:৩২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩
  • / ৯৬০৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জবি প্রতিনিধি:

একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গুচ্ছের পক্ষে মত দেয়াকে কেন্দ্র করে সহকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের উপাচার্য বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। উপাচার্য সেটি মার্ক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রেরণ করেছেন।

রোববার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে বিষয়টি জানা যায়। তবে সেদিন সভায় ওই অধ্যাপককে কোন হেনস্তা করা হয়নি বলে দাবি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

অভিযোগপত্রে অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের উল্লেখ করেন, ৬৪ তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় সবার কাছে যেটা সার্কুলার করে দেওয়া হয় সেটা ঠিক ছিলো। গুচ্ছ থেকে আমরা কেনো বের হয়ে যাচ্ছি সেটা উল্লেখ ছিল ওইখানে। ৫১ তম সভায় সবার সর্বস্মতিক্রমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছিলো।

ওই সভায় কেউ দ্বিমত করেনি। এখন যদি আমরা বের হতে চাই তার নিয়ম আছে। ৬৪তম সভায় সরাসরি গুচ্ছের পক্ষে আমিই মত দিয়েছি জোরালোভাবে। তবে আমার একার কথায় সব সম্ভব না। সরকার গুচ্ছ পদ্ধতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। এখন যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বের হতে চায় তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও বের হতে চাইবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এখন আমরা যদি গুচ্ছ থেকে বের হতে চাই তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ থাকা উচিত। সেটা ছিলোও। কিন্তু আমাদের সহকর্মীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য সেসব কথা পরিবর্তন করেন। বিবরণীতে সরাসরি লেখা হয় যে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বের হয়ে গেলাম এবং সবার কাছে চিঠি দেয়।

এতে বলা হয় যে বিবরণীতে লিপিবদ্ধজনিত কোন ত্রুটি থাকলে সাত দিনের মধ্যে জানাতে। এতে আমি বলি যে আমার যে কথা ছিলো তা তুলে ধরা হয়নি। বিষয়টি আমি উপাচার্যকে জানাই। মিটিংয়ের শুরুতে আমাকে সুযোগ দেওয়া হয় আমার কথা বলার জন্য। আমি আমার বক্তব্য বলি।

বলার পরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে যে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান তার একাডেমিক কমিটিতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বলেনি কেনো। একাডেমিক কাউন্সিলে এসে তিনি গুচ্ছের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কেনো? আমাকে যেহেতু জিজ্ঞাসা করেছে আমি সংক্ষেপে বলতেও চেয়েছিলাম।

তখন একাডেমিক কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরা আমার বিরোধিতা করে। তখম আমি উত্তেজিত হয়ে আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি করি এবং টেবিল চাপড়াই এবং বলি আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে এই একাডেমিক কাউন্সিলের বৈধতা নেই। কারণ একাডেমি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে যাবে পাস হবে। তখন নিশ্চিত হবে যে আমরা গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।

ঘটনার বিষয়ে এই অধ্যাপক উল্লেখ করেন, আমার কথার প্রেক্ষিতে আমার বিপরীত পাশে এবং বাম ও ডান পাশে বসা ৮-১০ জন উঠে আসে। কয়েকজন আমাকে শারিরীক নির্যাতন করে। তবে এদের মধ্যে সবাই আমাকে ফিজিক্যালি অ্যাটাক করেনি। এখন কেউ কেউ দাবি করছে যে এমন ঘটনা ঘটেনি। তার কারণ হলো এরা সবাই আমাকে শারীরিক হেনস্তা করেনি৷

কয়েকজন করেছে,আর কয়েকজন অবশ্য রোধ করার চেষ্টা করেছে। আশেপাশে যারা দাঁড়িয়ে ছিলো তাদের কারণে দূর থেকে দেখা যায়নি এখানে কি ঘটছে। এর মধ্যে ঘটনা ঘটে গেছে। এসময় ভিসি স্যার, ট্রেজারার স্যারও এটা শান্ত করার চেষ্টা করছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয় নি। যা ঘটার তা ঘটে গেছিলো।

তিনি বলেন, আমি টেবিল চাপড়ানোতে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তবে আমি টেবিল চাপড়ানোয় আমাকে হেনস্তার অধিকার কারো নেই। উপাচার্যের নিকট অনুরোধ রইল ঘটনার প্রকৃত পক্ষে যারা দোষী তাদেরকেই যেনো বিচারের আওতায় আনা হয়। সেই সাথে আমি ক্ষমা চেয়েছি একাডেমিক সভায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, এই ঘটনায় অধ্যাপক আব্দুল কাদের একটা অভিযোগ দিয়েছে। রেজিস্ট্রারকে সেটা মার্ক করে দিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এক প্রতিবাদলিপিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি দাবি করে, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বক্তব্যের এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়িয়ে উত্তেজনাকর ও অনাকাঙ্খিত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তাই উপস্থিত সহকর্মীরা তাকে হাত ধরে শান্ত হওয়ার জন্য বলেন। কোন হেনস্তার ঘটনা ঘটেনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হেনস্তার ঘটনায় উপাচার্যের কাছে বিচার চাইলেন জবির সেই অধ্যাপক

আপডেট সময় : ০২:৩২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৩

জবি প্রতিনিধি:

একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় গুচ্ছের পক্ষে মত দেয়াকে কেন্দ্র করে সহকর্মীদের হাতে হেনস্তার শিকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের উপাচার্য বরাবর একটি অভিযোগপত্র দিয়েছেন। উপাচার্য সেটি মার্ক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারের কাছে প্রেরণ করেছেন।

রোববার (৯ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর সূত্রে বিষয়টি জানা যায়। তবে সেদিন সভায় ওই অধ্যাপককে কোন হেনস্তা করা হয়নি বলে দাবি করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি।

অভিযোগপত্রে অধ্যাপক ড. আব্দুল কাদের উল্লেখ করেন, ৬৪ তম একাডেমিক কাউন্সিল সভায় সবার কাছে যেটা সার্কুলার করে দেওয়া হয় সেটা ঠিক ছিলো। গুচ্ছ থেকে আমরা কেনো বের হয়ে যাচ্ছি সেটা উল্লেখ ছিল ওইখানে। ৫১ তম সভায় সবার সর্বস্মতিক্রমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় অংশ নিয়েছিলো।

ওই সভায় কেউ দ্বিমত করেনি। এখন যদি আমরা বের হতে চাই তার নিয়ম আছে। ৬৪তম সভায় সরাসরি গুচ্ছের পক্ষে আমিই মত দিয়েছি জোরালোভাবে। তবে আমার একার কথায় সব সম্ভব না। সরকার গুচ্ছ পদ্ধতিকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাচ্ছে। এখন যদি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় বের হতে চায় তবে অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ও বের হতে চাইবে।

তিনি উল্লেখ করেন, এখন আমরা যদি গুচ্ছ থেকে বের হতে চাই তার সুনির্দিষ্ট বিবরণ থাকা উচিত। সেটা ছিলোও। কিন্তু আমাদের সহকর্মীদের আন্দোলনের মুখে উপাচার্য সেসব কথা পরিবর্তন করেন। বিবরণীতে সরাসরি লেখা হয় যে আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় গুচ্ছ থেকে বের হয়ে গেলাম এবং সবার কাছে চিঠি দেয়।

এতে বলা হয় যে বিবরণীতে লিপিবদ্ধজনিত কোন ত্রুটি থাকলে সাত দিনের মধ্যে জানাতে। এতে আমি বলি যে আমার যে কথা ছিলো তা তুলে ধরা হয়নি। বিষয়টি আমি উপাচার্যকে জানাই। মিটিংয়ের শুরুতে আমাকে সুযোগ দেওয়া হয় আমার কথা বলার জন্য। আমি আমার বক্তব্য বলি।

বলার পরে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমাকে উদ্দেশ্য করে বলে যে ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান তার একাডেমিক কমিটিতে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে তা বলেনি কেনো। একাডেমিক কাউন্সিলে এসে তিনি গুচ্ছের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন কেনো? আমাকে যেহেতু জিজ্ঞাসা করেছে আমি সংক্ষেপে বলতেও চেয়েছিলাম।

তখন একাডেমিক কাউন্সিলের অন্যান্য সদস্যরা আমার বিরোধিতা করে। তখম আমি উত্তেজিত হয়ে আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতার দাবি করি এবং টেবিল চাপড়াই এবং বলি আমার মত প্রকাশের স্বাধীনতা না থাকলে এই একাডেমিক কাউন্সিলের বৈধতা নেই। কারণ একাডেমি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত সিন্ডিকেটে যাবে পাস হবে। তখন নিশ্চিত হবে যে আমরা গুচ্ছ থেকে বের হয়ে যাচ্ছি।

ঘটনার বিষয়ে এই অধ্যাপক উল্লেখ করেন, আমার কথার প্রেক্ষিতে আমার বিপরীত পাশে এবং বাম ও ডান পাশে বসা ৮-১০ জন উঠে আসে। কয়েকজন আমাকে শারিরীক নির্যাতন করে। তবে এদের মধ্যে সবাই আমাকে ফিজিক্যালি অ্যাটাক করেনি। এখন কেউ কেউ দাবি করছে যে এমন ঘটনা ঘটেনি। তার কারণ হলো এরা সবাই আমাকে শারীরিক হেনস্তা করেনি৷

কয়েকজন করেছে,আর কয়েকজন অবশ্য রোধ করার চেষ্টা করেছে। আশেপাশে যারা দাঁড়িয়ে ছিলো তাদের কারণে দূর থেকে দেখা যায়নি এখানে কি ঘটছে। এর মধ্যে ঘটনা ঘটে গেছে। এসময় ভিসি স্যার, ট্রেজারার স্যারও এটা শান্ত করার চেষ্টা করছিলো কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর হয় নি। যা ঘটার তা ঘটে গেছিলো।

তিনি বলেন, আমি টেবিল চাপড়ানোতে দুঃখ প্রকাশ করেছি। তবে আমি টেবিল চাপড়ানোয় আমাকে হেনস্তার অধিকার কারো নেই। উপাচার্যের নিকট অনুরোধ রইল ঘটনার প্রকৃত পক্ষে যারা দোষী তাদেরকেই যেনো বিচারের আওতায় আনা হয়। সেই সাথে আমি ক্ষমা চেয়েছি একাডেমিক সভায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ইমদাদুল হক বলেন, এই ঘটনায় অধ্যাপক আব্দুল কাদের একটা অভিযোগ দিয়েছে। রেজিস্ট্রারকে সেটা মার্ক করে দিয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এক প্রতিবাদলিপিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি দাবি করে, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাদের বক্তব্যের এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে টেবিল চাপড়িয়ে উত্তেজনাকর ও অনাকাঙ্খিত পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তাই উপস্থিত সহকর্মীরা তাকে হাত ধরে শান্ত হওয়ার জন্য বলেন। কোন হেনস্তার ঘটনা ঘটেনি।