ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি স্ত্রী হত্যা মামলায় জেল খাটেন স্বামী, ১২ বছর পর সেই মৃত স্ত্রী জীবিত উদ্ধার তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার, আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা রয়েলের আছিয়া গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন্স সিংগাইর গ্রাম আদালত পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ পাটগ্রামে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা ও আটক রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন রসুলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের দীক্ষা অনুষ্ঠিত

আর্থিক অসচ্ছলতায় পড়ালেখা চালাতে পারছে না শারীরিক প্রতিবন্ধী ফরিদুল

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩
  • / ৯৭২৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নবিজুল ইসলাম নবীন,নীলফামারী প্রতিনিধি,

নীলফামারীতে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়ালেখা চালাতে পারছে না শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ ফরিদুল ইসলাম। সে নীলফামারী চাঁদের হাট ডিগ্রী কলেজে ইতিহাস বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

পারিবারিক অস্বচ্ছলতার মধ্য উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করলেও উচ্চ শিক্ষার জন্য অনার্স পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছে। ফরিদুল নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ী চাঁদের হাট পাইলাভাঙ্গা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ‘জন্মের পরে পায়ের সমস্যা নিয়ে ফরিদুল ইসলামের জন্ম হয়। জন্মের ৪ বছর পর হঠাৎ করে কানের সমস্যা হয়। তারপর থেকে কানেও কম শুনে। কানে কম শুনা ও পায়ের সমস্যার কারনে স্বাভাবিক ভাবে কোনো কাজ করতে পারে না ফরিদুল। মোঃ ফরিদুল ইসলামের পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন দিন মুজর। তার দুই ছেলে দুই মেয়ে।

সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই। আছে শুধু মাথা গোজার ঠাই। অনেক কষ্টে চলে তাদের সংসার। অনেক কষ্টে বিয়ে দিয়েছেন দুই মেয়েকে। আরেক ছেলেও পড়ছে হাফিজিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগে। কষ্ট করে হলেও বাবা রফিকুল ইসলাম তার সন্তান ফরিদুলের পড়াশোনা করাচ্ছেন। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি সহ নানা কারণে ফরিদুলের পড়াশোনা চালানো তার জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছে।’

ফরিদুল ইসলামের পিতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন গরীব মানুষ। সহায় সম্বল বলতে কিছু নাই। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলাতে খুব কষ্ট হয়। আমার ছেলে টা পড়াশোনায় অনেক ভাল স্যার বলেছে। তাই তাকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করাচ্ছি। আমারও স্বপ্ন ছেলে টা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করুক। কিন্তু টাকার অভাবে তা মনে হয় আর সম্ভব হবে না।’

ফরিদুল ইসলামের প্রাইভেট শিক্ষক শাইখুল ইসলাম বলেন, ‘৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীতে আমার কাছে যখন ফরিদুল প্রাইভেট পড়ত তখন থেকেই সে কানে কম শুনত। আমি যখন সকল শিক্ষার্থীদের অঙ্ক বুঝাতাম তখন ভাবতাম ফরিদুলকে কিভাবে অঙ্ক গুলো বুঝবে।

কিন্তু দেখলাম স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে সে অনেক ভালভাবে অঙ্ক গুলো বুঝত। তাকে একাধিক বার কোন বিষয় দেখে দিতে হয়নি। সে নিজের চেষ্টায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি তার একজন শিক্ষক হিসেবে চাই ফরিদুল ইসলাম উচ্চ শিক্ষা অর্জন করুক এবং উচ্চ শিক্ষা।

http://এইচ/কে

 

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

আর্থিক অসচ্ছলতায় পড়ালেখা চালাতে পারছে না শারীরিক প্রতিবন্ধী ফরিদুল

আপডেট সময় : ০৯:৪১:৫২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৩

নবিজুল ইসলাম নবীন,নীলফামারী প্রতিনিধি,

নীলফামারীতে আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে পড়ালেখা চালাতে পারছে না শারীরিক প্রতিবন্ধী মোঃ ফরিদুল ইসলাম। সে নীলফামারী চাঁদের হাট ডিগ্রী কলেজে ইতিহাস বিভাগে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র।

পারিবারিক অস্বচ্ছলতার মধ্য উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করলেও উচ্চ শিক্ষার জন্য অনার্স পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছে। ফরিদুল নীলফামারী সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের বিশমুড়ী চাঁদের হাট পাইলাভাঙ্গা এলাকার রফিকুল ইসলামের ছেলে।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, ‘জন্মের পরে পায়ের সমস্যা নিয়ে ফরিদুল ইসলামের জন্ম হয়। জন্মের ৪ বছর পর হঠাৎ করে কানের সমস্যা হয়। তারপর থেকে কানেও কম শুনে। কানে কম শুনা ও পায়ের সমস্যার কারনে স্বাভাবিক ভাবে কোনো কাজ করতে পারে না ফরিদুল। মোঃ ফরিদুল ইসলামের পিতা মোঃ রফিকুল ইসলাম একজন দিন মুজর। তার দুই ছেলে দুই মেয়ে।

সহায় সম্বল বলতে কিছুই নেই। আছে শুধু মাথা গোজার ঠাই। অনেক কষ্টে চলে তাদের সংসার। অনেক কষ্টে বিয়ে দিয়েছেন দুই মেয়েকে। আরেক ছেলেও পড়ছে হাফিজিয়া মাদরাসায় হেফজ বিভাগে। কষ্ট করে হলেও বাবা রফিকুল ইসলাম তার সন্তান ফরিদুলের পড়াশোনা করাচ্ছেন। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধি সহ নানা কারণে ফরিদুলের পড়াশোনা চালানো তার জন্য দুঃসহ হয়ে উঠেছে।’

ফরিদুল ইসলামের পিতা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি একজন গরীব মানুষ। সহায় সম্বল বলতে কিছু নাই। দিনমজুরের কাজ করে সংসার চলাতে খুব কষ্ট হয়। আমার ছেলে টা পড়াশোনায় অনেক ভাল স্যার বলেছে। তাই তাকে অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া করাচ্ছি। আমারও স্বপ্ন ছেলে টা উচ্চ শিক্ষা অর্জন করুক। কিন্তু টাকার অভাবে তা মনে হয় আর সম্ভব হবে না।’

ফরিদুল ইসলামের প্রাইভেট শিক্ষক শাইখুল ইসলাম বলেন, ‘৪র্থ ও ৫ম শ্রেনীতে আমার কাছে যখন ফরিদুল প্রাইভেট পড়ত তখন থেকেই সে কানে কম শুনত। আমি যখন সকল শিক্ষার্থীদের অঙ্ক বুঝাতাম তখন ভাবতাম ফরিদুলকে কিভাবে অঙ্ক গুলো বুঝবে।

কিন্তু দেখলাম স্বাভাবিকভাবেই অন্যান্য শিক্ষার্থীদের চেয়ে সে অনেক ভালভাবে অঙ্ক গুলো বুঝত। তাকে একাধিক বার কোন বিষয় দেখে দিতে হয়নি। সে নিজের চেষ্টায় এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় উর্ত্তীণ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘আমি তার একজন শিক্ষক হিসেবে চাই ফরিদুল ইসলাম উচ্চ শিক্ষা অর্জন করুক এবং উচ্চ শিক্ষা।

http://এইচ/কে