• অনিয়ম দূর্নীতি

    অনিয়ম ও দুর্নীতির আখড়া / ডিমলা তিস্তা কলেজ

      প্রতিনিধি ১৭ ডিসেম্বর ২০২২ , ৯:৪১:১৪ প্রিন্ট সংস্করণ

    নবিজুল ইসলাম নবীন,- নীলফামারী প্রতিনিধি,

    অবৈধ ভাবে নিয়োগকৃত ৩ শিক্ষকের বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ,অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আখড়ায় পরিনত হয়েছে নীলফামারী জেলার ডিমলা
    উপজেলার তিস্তা ডিগ্রী কলেজ।

    পদ নেই তবুও ভূয়া পদে একাধিক শিক্ষক নিয়োগ
    দিয়ে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে লাখ লাখ টাকা। এদিকে তদন্তে অনিয়ম প্রমানিত হওয়ায় তৃতীয় শিক্ষকের উত্তোলিত বেতন-ভাতা সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেয়ায় থলের বিড়াল বেড়িয়ে পড়ে।

    ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতের দাড়স্থ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র জানায়, নিয়োগের সমস্ত নিয়মনীতি উপেক্ষা করে তিস্তা ডিগ্রী কলেজ কর্তৃপক্ষ অবৈধ ভাবে তৃতীয় কোটায় ভৃগুরাম চক্রবর্তী, আনোয়ারুল ইসলাম এবং অধ্যক্ষ সৈয়দ আলী তার নিজ শ্যালকের স্ত্রী জেসমিন আক্তারকে নিয়োগ দেন।

    এবং অবৈধ ভাবে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চল, রংপুর অফিস থেকে এমপিও ভূক্ত করানো হয়।

    সূত্র জানায়, ভৃগুরাম চক্রবর্তীর ফাইল একাধিকবার
    “লেগ অব কোয়ালিফিকেশনের কারনে সর্বশেষ গত ৩০মে ২০২০ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা রংপুর থেকে তৃতীয় বারের মতো বাতিল হওয়ার পরে আলৌকিক ভাবে আবার ঐ মাসের এমপিও লিস্টে তার নাম আসে। এদিকে গত ২০২১ সালের ৪ঠা মে মাধ্যমিক ও
    উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এর উপপরিচালক (কলেজ-২) এনামূল হক হাওলাদার স্বাক্ষরিত পত্রে ভৃশুরাম চক্রবর্তীসহ উল্লেখিত ঐ তিন শিক্ষকের এমপিও
    স্থগিত করে এমপিও বাবদ উত্তোলিত বেতন-ভাতার অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত প্রদানের নির্দেশ দেয়া হয়।

    কিন্তু দীর্ঘ দিনেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সূত্র জানায়, ভৃগুরাম চক্রবর্তী এশিয়ান ইউনিভাসিটি থেকে যে সনদ দিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন সেটিও ভূয়া। কারন ২০১০ সালে এশিয়ান ইউনিভার্সিটিতে কোন ভাইস চ্যান্সেল ছিলেন না বলে গত ১৬ই নভেম্বর ২০১৬ ইং সরকারি প্রজ্ঞাপন থেকে জানা যায়।

    এছাড়া ভৃগুরাম চক্রবর্ত্তীকে নিয়োগ প্রদানের মাত্র সাতদিন আগে বাংলা বিভাগে তৃতীয় শিক্ষক হিসেবে জনৈক এনামূল হক নামের অপর একজনকে নিয়োগ দেয়া হলেও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভৃগুরাম চক্তবর্ত্তী নাম এমপিও লিষ্টে পাঠানো হয়। যা পরবর্তীতে স্থগিত হয়ে যায়।

    এছাড়া ভৃগুরাম চক্রবর্তী ১৯৯৮সালে এসএসসি, ২০০৫সালে এইচএসসি, ২০০৯ সালে অনার্স ও ২০১০ সালে এমএ পাস করার বিষয়টি আমলে নিয়েই এমপিও তালিকা থেকে তার ফাইল বাতিল করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

    এব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ সৈয়দ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ভৃগুরাম চক্রবর্ত্তী ঘটনা ধামাচাপা দিতে তার নিয়োগ ও যোগদান পত্রের বিষয় পরিবর্তন করে উচ্চ আদালতে একটি রিট পিটিশন করেছেন।

    যা গত ২৭ফেব্রয়ারি মহাপরিচালক, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরকে লিখিত ভাবে জানানো হলেও কার্যকরি কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় স্থানীয় ভাবে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ