• অন্যান্য

    সদরপুরে জমে উঠছে/ পুরাতন মোটরসাইকেলের হাট

      প্রতিনিধি ৩ জানুয়ারি ২০২৩ , ২:১৬:৩৭ প্রিন্ট সংস্করণ

    সদরপুর, (ফরিদপুর) প্রতিনিধিঃ

    মানুষের প্রতিদিনের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের হাটের পাশাপাশি এবার ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলায় গড়ে উঠেছে পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয়ের হাট ।

    এই হাটের নাম সদরপুর বাইক বাজার। ২০২২ সালের ২৬ শে মার্চ যাত্রা শুরু করে এই মোটরসাইকেল হাটটি। এটিই হলো জেলার বৃহত্তম পুরাতন মোটরসাইকেলের হাট। সপ্তাহের ২দিন প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার ক্রেতা ও বিক্রেতারদের উপস্থিতিতে ব্যাপক জমে উঠে পুরাতন মোটরসাইকেলের এই হাট।

    সদরপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নতুন বালুর মাঠে দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত হাটে বেচা-কেনা চলে। দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতা ও দর্শনার্থী এসে ভিড় জমায়।

    শুধু ফরিদপুর জেলা নয়, পাশের জেলা মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, শরীয়তপুর, রাজবাড়ী, এবং ঢাকা জেলার দোহার থেকেও ক্রেতা বিক্রেতারা এই হাটে আসছেন তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি বিক্রি এবং চাহিদার মধ্যে থাকা পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় করার জন্য।

    বর্তমানে মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় করার পেশায় জড়িয়ে রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। তারা বিভিন্ন জায়গা থেকে মোটরসাইকেল ক্রয় করে এই হাটে নিয়ে আসেন বিক্রি করার উদ্দেশ্য। আবার অনেক সময় হাট থেকেও মোটরসাইকেল কিনে থাকেন ব্যবসায়ীরা। ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলটি বিক্রয় করতে অথবা নিজের জন্য মোটরসাইকেল ক্রয় করতে এই হাটে আসেন অনেকে।

    হাটে ব্যবহারযোগ্য প্রায় সবধরনের পুরাতন মোটরসাইকেল পাওয়া যায়। ৫০ সিসির মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্রান্ডের মোটরসাইকেল এই হাটে উঠে থাকে। হাট কর্তৃপক্ষ সবসময় ক্রেতা ও বিক্রেতাদের সবধরনের সহযোগিতা করে থাকেন। বিক্রেতাদের মোটরসাইকেল হাটে তুলতে কোন খাজনা দিতে হয় না তবে মোটরসাইকেল বিক্রি হলে ক্রেতা ও বিক্রেতাকে দিতে হয় সামান্য কিছু খাজনা।

    পুরাতন মোটরসাইকেলের হাট চালু হওয়ার কারণে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই সুবিধা ভোগ করছেন বলে জানান হাট পরিচালক এ্যাডভোকেট মোঃ তুহিন মৃর্ধা, তাজিম বেপারী এবং সাংবাদিক তানভীর তুহিন।

    তারা জানান, মোটরসাইকেলর সব কাগজপত্র চেকসহ আসল কাগজপত্র এবং যাদের লাইসেন্স এখনো করা হয়নি তাদের ক্ষেত্রে শো-রুমের কাগজপত্র দেখা হয়। পাশাপাশি ইঞ্জিল ও চেসিস নম্বর ঠিক আছে কিনা তাও দেখা হয়।

    কি কারণে এ হাটের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন, আসলে পুরাতন মোটরসাইকেল বিক্রয় নিয়ে অনেকেই বিপাকে পরেন। এমনকি পুরাতন মোটরসাইকেল ক্রয় করতে গিয়েও অনেকে নানান ঝামেলার মধ্যে পরেন।

    এসব ঝামেলার কথা মাথায় রেখেই মূলত আমাদের এ হাটটি শুরু করা। এ হাটে মোটরসাইকেল তুলে বিক্রেতা তার চাহিদা মতো দাম যাচাই বাছাই করে সঠিক মূল্যে বিক্রি করতে পারেন। অন্যদিকে ক্রেতা তার পছন্দ মত মোটরসাইকেল ভালোভাবে দেখে শুনে যাচাই বাছাই করে ক্রয় করতে পারেন। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা কারোরই কোনো সংশয় থাকে না।

    তারা আরো বলেন, প্রতি হাটবারে ভালোই পুরাতন মোটরসাইকেল বেচা-কেনা হচ্ছে। এ হাটে মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে বিক্রেতার ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ১জন পরিচয় প্রদানকারী (তার ছবি ও আইডির ফটোকপি), মোটরসাইকেলর সব কাগজপত্র, উভয়ের ফোন নাম্বার। অপরদিকে ক্রেতার ভোটার আইডির ফটোকপি, ফোন নাম্বার বাধ্যতামূলক থাকতে হয়। কোন অবৈধ মোটরসাইকেল এ হাটে ক্রয়-বিক্রয় করা হয়না।

    স্থানীয় এক যুবক এম. এইচ সজীব বলেন, এটি সদরপুর উপজেলার প্রথম এবং একমাত্র পুরাতন মোটরসাইকেলের হাট। হাট পুরোদমে চালু হলে ক্রেতা-বিক্রেতা দুজনেরই সুবিধা হবে। হাট পরিচালনা যারা করেন তাদের ব্যবহার খুবই ভালো।

    তাদের প্রতি ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের অনেক বিশ্বাস রয়েছে। এখন পর্যন্ত এ হাটে কোন অবৈধ মোটরসাইকেল ক্রয়-বিক্রয় হয়েছে বা অন্য কোন ঝামেলা হয়েছে বলে শুনিনি। আমি চাই এ হাট আজীবন টিকে থাকুক।

    http://এইচ/কে

    আরও খবর

                       

    জনপ্রিয় সংবাদ