ঢাকা ০৫:৩৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
আলোকিত সুফি সাধক সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) ব্রাহ্মণপাড়ায় মায়ের খোজে দিশেহারা ২ বছরের আবদুল্লাহ কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও কালচারাল ডে অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ময়নামতি মিশন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক নিয়ােগ বিজ্ঞপ্তি তদন্তে আসা পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম গ্রেপ্তার ২ নারী “আমাদের স্বপ্ন যুব সংঘ” সংগঠনের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন আদ-দ্বীন হাসপাতালে বিস্কুটের ফ্যাক্টরি সন্ধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

বাঙালি মুসলিম সমাজের অগ্রগতিতে/ খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ্

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ৯৭২১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আবির হাসান, খুবি প্রতিনিধি:

বাঙালি মুসলিম শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারণে যাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ্ তাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংস্কারক ও সমাজহিতৈষী ব্যাক্তি। এছাড়াও তিনি একজন উচ্চ স্তরের আউলিয়া ছিলেন। তিনি ১৮৭৩ সালে ২৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলার নলতায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে।

খান বাহাদুর আহছানউল্লা বাঙালি মুসলমানদের অহংকার এবং এক সূর্যস্নাত মহাপুরুষ। তাঁর বিস্তৃত কর্মময় জীবন এখন ইতিহাসের অন্তর্গত। এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটা সময় অনগ্রসর বাঙালি মুসলমান জাতির উন্নয়নের জন্য ব্যয় করেছেন। সেবাই ছিল তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এই দেশ এবং জাতি খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লার কাছে নানাভাবে ঋণী। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার৷ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

তিনি অবিভক্ত বাংলার শিক্ষাবিভাগের ডাইরেক্টর পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, যে পদ কেবলমাত্র ইউরোপিয়ানদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। শিক্ষা বিভাগে তাঁর সক্রিয় হস্তক্ষেপে মুসলিম শিক্ষা ব্যবস্থার বিপুল সংস্কার সাধিত হয়। তিনি শিক্ষা সংস্কারমূলক কাজের বাস্তব রূপায়নের জন্য বহু পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন।

ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসেবে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ-এর নিয়োগ প্রাপ্তি বাংলার মুসলিম ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।এই দায়িত্ব প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের শিক্ষার উন্নতি ও প্রসারের গুরুদায়িত্ব তাঁর উপর অর্পিত হয়। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে “খান বাহাদুর ” উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই কলকাতায় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান রয়েছে। এছাড়া তিনি মাধবপুর শেখ হাইস্কুল,কুমিল্লা (১৯১১), রায়পুর কে,সি হাইস্কুল (১৯১২), চান্দিনা পাইলট হাইস্কুল,কুমিল্লা (১৯২০), কুটি অটল বিহারী হাইস্কুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া(১৯২০), চৌদ্দগ্রাম এইচ,জে পাইলট হাইস্কুল (১৯২১) প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ ১৯৩৫ সালে আহ্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক,সু-সাহিত্যিক, বাংলা ভাষানুরাগী,মানবসেবক ও ইসলামী চিন্তাবিদ, নারী জাতি ও অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ।

১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এইকর্মবীর সাধক ইহ জগত ত্যাগ করেন। তাকে তাঁর জন্মস্থান সাতক্ষীরা জেলার নলতায় সমাহিত করা হয়।পরে তাঁর সমাধিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে নলতা শরীফ।

খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ জন্ম বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে হওয়ার তাঁর নামে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্র আবাসিক হল, খুলনাতে খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় (বেসরকারী), সাতক্ষীরায় খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজ ছাড়াও তাঁর নামে অনেক স্থাপনা রয়েছে।

http://এইচ/কে

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
16 September 2022

বাঙালি মুসলিম সমাজের অগ্রগতিতে/ খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ্

www.Bangladesherbarta.com

বাঙালি মুসলিম সমাজের অগ্রগতিতে/ খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ্

আপডেট সময় : ০৬:৪২:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২

আবির হাসান, খুবি প্রতিনিধি:

বাঙালি মুসলিম শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারণে যাদের ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ্ তাদের অন্যতম। তিনি ছিলেন ঊনবিংশ শতাব্দীর একজন প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, শিক্ষা সংস্কারক ও সমাজহিতৈষী ব্যাক্তি। এছাড়াও তিনি একজন উচ্চ স্তরের আউলিয়া ছিলেন। তিনি ১৮৭৩ সালে ২৭ ডিসেম্বর সাতক্ষীরা জেলার নলতায় এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করে।

খান বাহাদুর আহছানউল্লা বাঙালি মুসলমানদের অহংকার এবং এক সূর্যস্নাত মহাপুরুষ। তাঁর বিস্তৃত কর্মময় জীবন এখন ইতিহাসের অন্তর্গত। এই ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ তাঁর জীবনের প্রায় পুরোটা সময় অনগ্রসর বাঙালি মুসলমান জাতির উন্নয়নের জন্য ব্যয় করেছেন। সেবাই ছিল তাঁর জীবনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক। এই দেশ এবং জাতি খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লার কাছে নানাভাবে ঋণী। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার৷ ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা ছিল অপরিসীম।

তিনি অবিভক্ত বাংলার শিক্ষাবিভাগের ডাইরেক্টর পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন, যে পদ কেবলমাত্র ইউরোপিয়ানদের জন্য সংরক্ষিত ছিল। শিক্ষা বিভাগে তাঁর সক্রিয় হস্তক্ষেপে মুসলিম শিক্ষা ব্যবস্থার বিপুল সংস্কার সাধিত হয়। তিনি শিক্ষা সংস্কারমূলক কাজের বাস্তব রূপায়নের জন্য বহু পাঠ্যপুস্তক রচনা করেন।

ব্রিটিশ সরকারের শিক্ষা বিভাগের সহকারী পরিচালক হিসেবে খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লাহ-এর নিয়োগ প্রাপ্তি বাংলার মুসলিম ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক।এই দায়িত্ব প্রাপ্তির মধ্য দিয়ে বাংলার মানুষের শিক্ষার উন্নতি ও প্রসারের গুরুদায়িত্ব তাঁর উপর অর্পিত হয়। ১৯১১ সালে ব্রিটিশ সরকার তাঁকে “খান বাহাদুর ” উপাধিতে ভূষিত করেন।

তাঁর অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলেই কলকাতায় মুসলমানদের জন্য স্বতন্ত্র ইসলামিয়া কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম মুসলিম হাইস্কুল প্রতিষ্ঠায় তাঁর অবদান রয়েছে। এছাড়া তিনি মাধবপুর শেখ হাইস্কুল,কুমিল্লা (১৯১১), রায়পুর কে,সি হাইস্কুল (১৯১২), চান্দিনা পাইলট হাইস্কুল,কুমিল্লা (১৯২০), কুটি অটল বিহারী হাইস্কুল ব্রাহ্মণবাড়িয়া(১৯২০), চৌদ্দগ্রাম এইচ,জে পাইলট হাইস্কুল (১৯২১) প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ ১৯৩৫ সালে আহ্ছানিয়া মিশন প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ছিলেন একাধারে শিক্ষা ও সমাজ সংস্কারক,সু-সাহিত্যিক, বাংলা ভাষানুরাগী,মানবসেবক ও ইসলামী চিন্তাবিদ, নারী জাতি ও অন্য সম্প্রদায়ের প্রতি তাঁর ছিল গভীর শ্রদ্ধাবোধ।

১৯৬৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি এইকর্মবীর সাধক ইহ জগত ত্যাগ করেন। তাকে তাঁর জন্মস্থান সাতক্ষীরা জেলার নলতায় সমাহিত করা হয়।পরে তাঁর সমাধিকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে নলতা শরীফ।

খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ জন্ম বৃহত্তর খুলনা অঞ্চলে হওয়ার তাঁর নামে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি ছাত্র আবাসিক হল, খুলনাতে খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় (বেসরকারী), সাতক্ষীরায় খান বাহাদুর আহসান উল্লাহ কলেজ ছাড়াও তাঁর নামে অনেক স্থাপনা রয়েছে।

http://এইচ/কে

Share this news as a Photo Card