ঢাকা ১০:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন ব্রাহ্মণপাড়ার কৃতি সন্তান মোঃ মুমিনুল ইসলাম ইনটেলে যোগ দিচ্ছেন জবি রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জিহাদ অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, দোকান-মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় ইলিয়াস আলীকে গুমের কারণ জানালেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন মাগুরায় অসচ্ছল পরিবারের বাড়িতে ঈদ বাজার পৌঁছে দিল জাহানারা বেগম ফাউন্ডেশন দ্যা রয়েল কারাতে-দো এসোসিয়েশনের ইফতার ও নতুন কমিটি গঠন এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লা মেট্রোপলিটনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ শ্রীপুরে ভিজিএফ তালিকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ সুরেশ্বর দরবারে খাদেম হত্যা: গদীনশীন পীর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

উলিপুরে গ্রাম পুলিশরা ৭মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছে না | বাংলাদেশের বার্তা 

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০২:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ৯৬৭৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাজাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুড়িগ্রামের উলিপুর ১২০জন গ্রাম পুলিশ ৭মাস ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অনেকের ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বন্ধ রয়েছে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা।

গ্রাম পুলিশ ও ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ১২০জন গ্রাম পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন দফাদার ও ১’শ ৮জন মহল্লাদার রয়েছে। দফাদার প্রতি মাসে ৭হাজার ও মহল্লাদার ৬হাজার ৫’শ টাকা ভাতা পান।

মোট ভাতার অর্ধেক সরকারি ভাবে এবং বাকী অর্ধেক উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে প্রদান করা হয়। মোট বেতনের অর্ধেকের সরকারি অংশ নিয়মিত পেলেও উপজেলা পরিষদের বাকী অংশের ভাতা দীর্ঘ ৭মাস থেকে বকেয়া থাকায় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গুনাইগাছ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমরা ইউপির অংশের ভাতা ৭/৮ মাস থেকে পাই না। আমাদের সংসার চালানো খুবই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমরা সামান্য বেতন পাই তাও নিয়মিত পাই না।

ঠিকভাবে বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে পারি না, সন্তানদের স্কুলে দিতে পারি না, পোশাকপাতি দিতে পারি না। দিনরাত আমাদের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। কখনও চেয়ারম্যান ডাকে, এক সময় মেম্বার ডাকে, একবার থানা ডাকে আবার কোন সময় ইউনও স্যার ডাকে। সামন্য বেতনটুকু না পেয়ে খুব কষ্টে আছি।

গ্রাম পুলিশ ইউনিয়নের সভাপতি সচীন চন্দ্র বলেন, সরকারি অংশের ভাতা নিয়মিত পাচ্ছি। কিন্তু উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের অংশ দীর্ঘ ৭মাস থেকে পাচ্ছি না। ফলে আমরা নিয়মিত ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

গ্রাম পুলিশ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সরকার বলেন, আমরা সরকারের কর্মচারী বটে, সরকার আমাদের দিয়ে সব কাজ করিয়ে নিচ্ছে, আমরাও দায়িত্ব মতো জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কাজ করছি। ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করি, থানায় হাজিরা দেই ও ইউএনও অফিসে রোল কলে যাই যখন যেখানে ডাকে যথাসময়ে যাওয়ার চেষ্টা করি ও সেই কাজগুলো করি।

তিনি আরও জানান, সরকার যে আমাদের বাহিনী স্বীকৃতি দিয়েছে আমরা বাহীনির যে একটা ন্যায্য মূল্যের প্রাপ্য টাকা পাবো, জাতীয় স্কেলে অর্ন্তভূক্ত হবো আজও আমরা অর্ন্তভূক্ত হই নাই। আমরা রিট করেছি রিটের রায়ও পেয়েছি। ২০১১ সাল থেকে তা কার্যকর হলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। সমান্য বেতনটুকুও ৭ মাস থেকে না পেয়ে আমরা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার শোভন রাংসা বলেন, সরকারি অংশের ভাতা রয়েছে। ইউপি অংশের টাকা না থাকলে কোথায় থেকে দিবো। যেহেতু সামনে হাট-বাজারের ইজারা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের টাকা আসলে আমরা দিয়ে দিবো।

http://এইচ/কে

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
06 February 2023

উলিপুরে গ্রাম পুলিশরা ৭মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছে না | বাংলাদেশের বার্তা 

www.Bangladesherbarta.com

উলিপুরে গ্রাম পুলিশরা ৭মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছে না | বাংলাদেশের বার্তা 

আপডেট সময় : ০২:৩৪:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

সাজাদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টারঃ

কুড়িগ্রামের উলিপুর ১২০জন গ্রাম পুলিশ ৭মাস ধরে বেতন ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিয়মিত বেতন-ভাতা না পাওয়ায় অনেকের ছেলে-মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। বন্ধ রয়েছে অসুস্থ বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চিকিৎসা।

গ্রাম পুলিশ ও ইউএনও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে মোট ১২০জন গ্রাম পুলিশ সদস্য রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১২ জন দফাদার ও ১’শ ৮জন মহল্লাদার রয়েছে। দফাদার প্রতি মাসে ৭হাজার ও মহল্লাদার ৬হাজার ৫’শ টাকা ভাতা পান।

মোট ভাতার অর্ধেক সরকারি ভাবে এবং বাকী অর্ধেক উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাত থেকে প্রদান করা হয়। মোট বেতনের অর্ধেকের সরকারি অংশ নিয়মিত পেলেও উপজেলা পরিষদের বাকী অংশের ভাতা দীর্ঘ ৭মাস থেকে বকেয়া থাকায় গ্রাম পুলিশ সদস্যরা পরিবার পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

গুনাইগাছ ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, আমরা ইউপির অংশের ভাতা ৭/৮ মাস থেকে পাই না। আমাদের সংসার চালানো খুবই মুশকিল হয়ে পড়েছে। আমরা সামান্য বেতন পাই তাও নিয়মিত পাই না।

ঠিকভাবে বাবা-মায়ের চিকিৎসা করাতে পারি না, সন্তানদের স্কুলে দিতে পারি না, পোশাকপাতি দিতে পারি না। দিনরাত আমাদের কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। কখনও চেয়ারম্যান ডাকে, এক সময় মেম্বার ডাকে, একবার থানা ডাকে আবার কোন সময় ইউনও স্যার ডাকে। সামন্য বেতনটুকু না পেয়ে খুব কষ্টে আছি।

গ্রাম পুলিশ ইউনিয়নের সভাপতি সচীন চন্দ্র বলেন, সরকারি অংশের ভাতা নিয়মিত পাচ্ছি। কিন্তু উপজেলা পরিষদের রাজস্ব খাতের অংশ দীর্ঘ ৭মাস থেকে পাচ্ছি না। ফলে আমরা নিয়মিত ভাতা না পেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছি।

গ্রাম পুলিশ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শাহআলম সরকার বলেন, আমরা সরকারের কর্মচারী বটে, সরকার আমাদের দিয়ে সব কাজ করিয়ে নিচ্ছে, আমরাও দায়িত্ব মতো জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত সকল কাজ করছি। ইউনিয়ন পরিষদে দায়িত্ব পালন করি, থানায় হাজিরা দেই ও ইউএনও অফিসে রোল কলে যাই যখন যেখানে ডাকে যথাসময়ে যাওয়ার চেষ্টা করি ও সেই কাজগুলো করি।

তিনি আরও জানান, সরকার যে আমাদের বাহিনী স্বীকৃতি দিয়েছে আমরা বাহীনির যে একটা ন্যায্য মূল্যের প্রাপ্য টাকা পাবো, জাতীয় স্কেলে অর্ন্তভূক্ত হবো আজও আমরা অর্ন্তভূক্ত হই নাই। আমরা রিট করেছি রিটের রায়ও পেয়েছি। ২০১১ সাল থেকে তা কার্যকর হলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন হয়নি। সমান্য বেতনটুকুও ৭ মাস থেকে না পেয়ে আমরা অনেক কষ্টে জীবনযাপন করছি।

এ বিষয়ে উপজেলা নিবার্হী অফিসার শোভন রাংসা বলেন, সরকারি অংশের ভাতা রয়েছে। ইউপি অংশের টাকা না থাকলে কোথায় থেকে দিবো। যেহেতু সামনে হাট-বাজারের ইজারা রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের টাকা আসলে আমরা দিয়ে দিবো।

http://এইচ/কে

Share this news as a Photo Card