ঢাকা ০১:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
আলোকিত সুফি সাধক সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) ব্রাহ্মণপাড়ায় মায়ের খোজে দিশেহারা ২ বছরের আবদুল্লাহ কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও কালচারাল ডে অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ময়নামতি মিশন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক নিয়ােগ বিজ্ঞপ্তি তদন্তে আসা পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম গ্রেপ্তার ২ নারী “আমাদের স্বপ্ন যুব সংঘ” সংগঠনের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন আদ-দ্বীন হাসপাতালে বিস্কুটের ফ্যাক্টরি সন্ধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

চার প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বৃদ্ধ বাবার জীবন যুদ্ধ

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩
  • / ৯৬৮১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নবীন ইসলাম,নীলফামারী প্রতিনিধি।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৮৬ বছরের বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার। তার ৮ সন্তানের মধ্যে পাঁচজনই শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি চারজনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযুদ্ধ যাচ্ছেন রেলওয়ে কারখানার এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী।

আব্দুস সাত্তার তার সন্তানদের নিয়ে থাকেন সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ এলাকায় ছোট্ট একটি বাড়িতে। ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাউনির একটি ছোট্ট বাড়ি। সেই বাড়ির বারান্দায় এক ছেলে আরেকজন ঘরেই মাটিতে বসে আছেন। আর দুজন অন্য একটি ঘরে শুয়ে আছেন। বয়সের ভারে নুয়েপড়া সাত্তার ঘরে বসে আছেন।

বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার জানান, ‘তার আট সন্তানের মধ্যে পাঁচ সন্তানই প্রতিবন্ধী। তারা প্রত্যেকেই ক্ষুদ্রাকৃতির মাথা নিয়ে ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্মগ্রহন করে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ২৫ বছর বয়সে ২০০৩ সালে মারা যান। বেঁচে আছেন সুস্থ দুই মেয়েসহ শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মো. এহসান (৫০), মো. মুন্নু (৪৮), মো.শওকত (৪৫) ও মো.এরশাদ (৩৮)। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কি রহমত জানি না। ওদের মা বেঁচে থাকতে কষ্টটা কম ছিল। কিন্তু মারা যাওয়ায় ২০ বছর ধরে একাই প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্টে তাদের লালন পালন করতে হচ্ছে। আমার ও স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কেউ প্রতিবন্ধী ছিল না। কিন্তু স্রষ্টার কি কৃপা আমার ঘরের পাঁচ সন্তানই বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী।

আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চাকরি করতাম। সেই হিসেবে পোষ্য কোটা কিংবা প্রতিবন্ধী কোঠাতে কোনো ছেলে-মেয়েরই চাকরি হয়নি। অনেক ধরাধরি করে দুইজনের প্রতিবন্ধী ভাতা চালু হয়েছে। অবসর ভাতা ও ছেলেদের সরকারের সমাজসেবা বিভাগের কিছু ভাতার টাকা আমাদের জীবন চলার মাধ্যম।

এই বুড়ো বয়সে নিজের অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা দিয়ে আব্দুস সাত্তার বলেন, একজন বাবা হয়ে প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে সময় পার করছি। কত কষ্টে তাদের নিয়ে বেঁচে আছি, তা মুখে বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার নেই।

আব্দুস সাত্তারের প্রতিবেশী শাখাওয়াত হোসেন শওকত বলেন, ‘ছোট্ট ওই বাড়িতে প্রতিবন্ধী চার সন্তান নিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন আব্দুস সাত্তার। অভাব-অনটনে দিন পার করছেন তারা। বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ সেই বাবার কাঁধেই চার প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের জীবন তাঁর।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু মো. আলেমুল বাশার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি এ কর্মস্থলে যোগদান করার পর থেকে কারো কাছ থেকে শুনিনি। তবে এ বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে।’

সৈয়দপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
22 July 2023

চার প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বৃদ্ধ বাবার জীবন যুদ্ধ

www.Bangladesherbarta.com

চার প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে বৃদ্ধ বাবার জীবন যুদ্ধ

আপডেট সময় : ০৩:৩১:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ জুলাই ২০২৩

নবীন ইসলাম,নীলফামারী প্রতিনিধি।

নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৮৬ বছরের বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার। তার ৮ সন্তানের মধ্যে পাঁচজনই শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। তাদের মধ্যে একজন মারা গেছেন। বাকি চারজনকে নিয়ে অনেক কষ্টে জীবনযুদ্ধ যাচ্ছেন রেলওয়ে কারখানার এই অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী।

আব্দুস সাত্তার তার সন্তানদের নিয়ে থাকেন সৈয়দপুর শহরের ইসলামবাগ এলাকায় ছোট্ট একটি বাড়িতে। ওই বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনের ছাউনির একটি ছোট্ট বাড়ি। সেই বাড়ির বারান্দায় এক ছেলে আরেকজন ঘরেই মাটিতে বসে আছেন। আর দুজন অন্য একটি ঘরে শুয়ে আছেন। বয়সের ভারে নুয়েপড়া সাত্তার ঘরে বসে আছেন।

বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার জানান, ‘তার আট সন্তানের মধ্যে পাঁচ সন্তানই প্রতিবন্ধী। তারা প্রত্যেকেই ক্ষুদ্রাকৃতির মাথা নিয়ে ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসেবে জন্মগ্রহন করে। তাদের মধ্যে মোহাম্মদ আলী ২৫ বছর বয়সে ২০০৩ সালে মারা যান। বেঁচে আছেন সুস্থ দুই মেয়েসহ শারীরিক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী মো. এহসান (৫০), মো. মুন্নু (৪৮), মো.শওকত (৪৫) ও মো.এরশাদ (৩৮)। দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কি রহমত জানি না। ওদের মা বেঁচে থাকতে কষ্টটা কম ছিল। কিন্তু মারা যাওয়ায় ২০ বছর ধরে একাই প্রতিনিয়ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে অনেক কষ্টে তাদের লালন পালন করতে হচ্ছে। আমার ও স্ত্রীর পরিবারের মধ্যে কেউ প্রতিবন্ধী ছিল না। কিন্তু স্রষ্টার কি কৃপা আমার ঘরের পাঁচ সন্তানই বুদ্ধি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী।

আব্দুস সাত্তার বলেন, আমি সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানায় চাকরি করতাম। সেই হিসেবে পোষ্য কোটা কিংবা প্রতিবন্ধী কোঠাতে কোনো ছেলে-মেয়েরই চাকরি হয়নি। অনেক ধরাধরি করে দুইজনের প্রতিবন্ধী ভাতা চালু হয়েছে। অবসর ভাতা ও ছেলেদের সরকারের সমাজসেবা বিভাগের কিছু ভাতার টাকা আমাদের জীবন চলার মাধ্যম।

এই বুড়ো বয়সে নিজের অসহায়ত্বের কথা বর্ণনা দিয়ে আব্দুস সাত্তার বলেন, একজন বাবা হয়ে প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে নিদারুণ কষ্টের মধ্যে সময় পার করছি। কত কষ্টে তাদের নিয়ে বেঁচে আছি, তা মুখে বর্ণনা করার মতো ভাষা আমার নেই।

আব্দুস সাত্তারের প্রতিবেশী শাখাওয়াত হোসেন শওকত বলেন, ‘ছোট্ট ওই বাড়িতে প্রতিবন্ধী চার সন্তান নিয়ে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন আব্দুস সাত্তার। অভাব-অনটনে দিন পার করছেন তারা। বর্তমানে বয়োবৃদ্ধ সেই বাবার কাঁধেই চার প্রতিবন্ধী। প্রতিবন্ধী সন্তানদের নিয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের জীবন তাঁর।’

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু মো. আলেমুল বাশার বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার জানা নেই। আমি এ কর্মস্থলে যোগদান করার পর থেকে কারো কাছ থেকে শুনিনি। তবে এ বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হবে।’

সৈয়দপুর উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘প্রতিবন্ধী ভাতার জন্য আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে ভাতার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে।’

Share this news as a Photo Card