ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি স্ত্রী হত্যা মামলায় জেল খাটেন স্বামী, ১২ বছর পর সেই মৃত স্ত্রী জীবিত উদ্ধার তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার, আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা রয়েলের আছিয়া গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন্স সিংগাইর গ্রাম আদালত পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ পাটগ্রামে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা ও আটক রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন রসুলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের দীক্ষা অনুষ্ঠিত

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মওজুদ হচ্ছে বিষাক্ত পটকা মাছ

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ নভেম্বর ২০২২
  • / ৯৭৩৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজিজ উদ্দিন।।

নিষেধাজ্ঞা শেষে কর্মচাঞ্চল্যে এখন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ফিশারিঘাটমুখী রাস্তা এরই মধ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। কেটে অর্ধেক করা ড্রাম আর ঝুড়ি নিয়ে ছুটছে রিকশা-ভ্যান, পিকআপ আর ট্রাক।

বুধবার (২নভেম্বর) দুপুর আড়াই টায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। গত ২৮ অক্টোবর মধ্যরাতে শেষ হয়েছে সরকারিভাবে আসা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। সাগরে ইলিশ আহরণ, ক্রয় বিক্রি, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিলো।

২৯ অক্টোবর থেকে মৎস্য কেন্দ্রে জেলে, মাঝি ও মাছ ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে সরগরম অবতরণ কেন্দ্র। ট্রলার আসছে আর যাচ্ছে। ইলিশের পাশাপাশি নানাপ্রকারের মাছের ভরপুর। আর সেখানে ঔষুধী গুণের দোহাই দিয়ে মওজুদ করছে বিষাক্ত নিষিদ্ধ পটকা মাছ।

পটকা নামে এই মাছটি দেশের অনেক জায়গায় নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ হলেও এক শ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী পটকা মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। সেই সাথে কলা হাঙ্গর নামের একটি মাছও মওজুদ হচ্ছে।

শুক্কুর নামের এক যুবক জানান, ৪০ টাকা কেজিতে পটকা বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলো চট্টগ্রাম ও ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। এসব মাছ বিষাক্ত এবং বিক্রিতে নিষিদ্ধ এমন প্রশ্নে রহিম বলেন, পটকা মাছ খাওয়া যায় কিন্তু ডিম খেলে মানুষ মারা যায়। এটা ঔষধী মাছ। তাছাড়া এই ব্যবসা আমার নয় আমি মজুরি নিয়ে কাজ করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে’র ব্যবস্থাপক মোঃ বদরুদ্দৌজা বলেন, আমার নজরে আসেনি। আমার চোখে পড়লে হয়তো আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। যেহেতু আপনি বিষয়টি জানালেন আমি আজ থেকে পটকা মাছ চোখে পড়লে জব্দ করবো এবং যারা জড়িত তাদের সতর্ক করবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে’র ব্যবস্থাপক মোঃ বদরুদ্দৌজা বলেন, আমার নজরে আসেনি। আমার চোখে পড়লে হয়তো আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। যেহেতু আপনি বিষয়টি জানালেন আমি আজ থেকে পটকা মাছ চোখে পড়লে জব্দ করবো এবং যারা জড়িত তাদের সতর্ক করবো।

এ প্রসঙ্গে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর কোথাও কোথাও বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করে পটকা খাওয়া হয়। কিন্তু মাছটি বিষাক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির পটকা মাছ পাওয়া যায়। প্রায় ১২ সে.মি. লম্বা হয় এরা। মাথা ও পিঠ চওড়া, লেজের দিকটা সরু। এদের পিঠের দিক জলপাই রঙ, পাশে ও পেটের অংশ সাদা এবং পিঠে কালো কালো দাগ থাকে। কোথাও চোখে পড়লে জানাবেন, বলেন তিনি।

নিজের আকৃতি পরিবর্তনে সক্ষম এই মাছটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মাছটি দেখতে খুবই সুন্দর। তবে বিষাক্ত এই মাছ খেয়ে মারা গেছেন এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়। পটকা মাছ বাংলাদেশের নদীতে সচরাচর পাওয়া যায়। এর সামুদ্রিক জ্ঞাতির নাম বেলুন মাছ। পটকা মাছের ৪টি বৈজ্ঞানিক নাম আছে যথা টেট্রোডন প্যাটোকা, শেলোনোডন প্যাটোকা, টেট্রোডন ডিসুটিডেনস এবং টেট্রোডন কাপ্পা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পটকা মাছের বিষক্রিয়া সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে হয় না। কারও প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকতে পারে আবার কারও কম থাকতে পারে। সে হিসেবে পটকা মাছ খাওয়ার ২০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে বিষক্রিয়া শুরু হতে পারে।

জানা যায়, কক্সবাজারের এক শ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী এই পটকা মাছ আহরণ করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তাদের নির্দিষ্ট কিছু লোক আছে। ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হয়ে পটকা মাছের চালান নিয়ে যাচ্ছে এই ব্যবসায়ীরা। পরিচিত মাছ না হওয়ায় তেমন একটা নজরে আসেনা এই পটকা।

আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হয়ে পটকা মাছ নিয়ে যাচ্ছে এই ব্যবসায়ীরা। নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত জেনেও সংশ্লিষ্টরা আছেন চুপেচাপে। মৎস্য অবতরণ ও মৎস্য অফিসের কর্মরতরা সব জেনেও জেন না জানে। অবতরণ কেন্দ্র সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যসায়ীদের সাথে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, পটকা মাছ বিক্রি হচ্ছে তেমন কোথাও খবর পায়নি।

মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, পটকা মাছ বিশেষ একটি ঔষধের জন্য খুবই কার্যকর। এজন্য জেলেদের জালে ধরা পড়লে সেগুলো ছেড়ে না দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িরা সস্তা দামে কিনে নেয়।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষাক্ত একটি পটকা মাছের বিষে কমপক্ষে ৩০ জন মারা যেতে পারে। প্রতি বছর এই মাছ খেয়ে মানুষ মারা গেলেও বাংলাদেশে তেমন একটা গবেষণা হয়নি। গবেষণা হলে প্রাণহানি বন্ধের পাশাপাশি হয়তো বিষ কাজে লাগ‍ানো যেতো।

http://এইচ/কে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র মওজুদ হচ্ছে বিষাক্ত পটকা মাছ

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ নভেম্বর ২০২২

আজিজ উদ্দিন।।

নিষেধাজ্ঞা শেষে কর্মচাঞ্চল্যে এখন মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র। ফিশারিঘাটমুখী রাস্তা এরই মধ্যে ব্যস্ত হয়ে উঠেছে। কেটে অর্ধেক করা ড্রাম আর ঝুড়ি নিয়ে ছুটছে রিকশা-ভ্যান, পিকআপ আর ট্রাক।

বুধবার (২নভেম্বর) দুপুর আড়াই টায় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। গত ২৮ অক্টোবর মধ্যরাতে শেষ হয়েছে সরকারিভাবে আসা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। সাগরে ইলিশ আহরণ, ক্রয় বিক্রি, মজুদ ও পরিবহন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ ছিলো।

২৯ অক্টোবর থেকে মৎস্য কেন্দ্রে জেলে, মাঝি ও মাছ ব্যবসায়ীদের হাঁকডাকে সরগরম অবতরণ কেন্দ্র। ট্রলার আসছে আর যাচ্ছে। ইলিশের পাশাপাশি নানাপ্রকারের মাছের ভরপুর। আর সেখানে ঔষুধী গুণের দোহাই দিয়ে মওজুদ করছে বিষাক্ত নিষিদ্ধ পটকা মাছ।

পটকা নামে এই মাছটি দেশের অনেক জায়গায় নিষিদ্ধ নিষিদ্ধ হলেও এক শ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী পটকা মাছ বিক্রি করতে দেখা গেছে। সেই সাথে কলা হাঙ্গর নামের একটি মাছও মওজুদ হচ্ছে।

শুক্কুর নামের এক যুবক জানান, ৪০ টাকা কেজিতে পটকা বিক্রি করা হচ্ছে। এগুলো চট্টগ্রাম ও ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হবে। এসব মাছ বিষাক্ত এবং বিক্রিতে নিষিদ্ধ এমন প্রশ্নে রহিম বলেন, পটকা মাছ খাওয়া যায় কিন্তু ডিম খেলে মানুষ মারা যায়। এটা ঔষধী মাছ। তাছাড়া এই ব্যবসা আমার নয় আমি মজুরি নিয়ে কাজ করছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে’র ব্যবস্থাপক মোঃ বদরুদ্দৌজা বলেন, আমার নজরে আসেনি। আমার চোখে পড়লে হয়তো আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। যেহেতু আপনি বিষয়টি জানালেন আমি আজ থেকে পটকা মাছ চোখে পড়লে জব্দ করবো এবং যারা জড়িত তাদের সতর্ক করবো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে’র ব্যবস্থাপক মোঃ বদরুদ্দৌজা বলেন, আমার নজরে আসেনি। আমার চোখে পড়লে হয়তো আমি সাথে সাথে ব্যবস্থা নিতে পারতাম। যেহেতু আপনি বিষয়টি জানালেন আমি আজ থেকে পটকা মাছ চোখে পড়লে জব্দ করবো এবং যারা জড়িত তাদের সতর্ক করবো।

এ প্রসঙ্গে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ বদরুজ্জামান বলেন, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলোর কোথাও কোথাও বিশেষ পদ্ধতিতে রান্না করে পটকা খাওয়া হয়। কিন্তু মাছটি বিষাক্ত।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে তিন প্রজাতির পটকা মাছ পাওয়া যায়। প্রায় ১২ সে.মি. লম্বা হয় এরা। মাথা ও পিঠ চওড়া, লেজের দিকটা সরু। এদের পিঠের দিক জলপাই রঙ, পাশে ও পেটের অংশ সাদা এবং পিঠে কালো কালো দাগ থাকে। কোথাও চোখে পড়লে জানাবেন, বলেন তিনি।

নিজের আকৃতি পরিবর্তনে সক্ষম এই মাছটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মাছটি দেখতে খুবই সুন্দর। তবে বিষাক্ত এই মাছ খেয়ে মারা গেছেন এমন লোকের সংখ্যাও কম নয়। পটকা মাছ বাংলাদেশের নদীতে সচরাচর পাওয়া যায়। এর সামুদ্রিক জ্ঞাতির নাম বেলুন মাছ। পটকা মাছের ৪টি বৈজ্ঞানিক নাম আছে যথা টেট্রোডন প্যাটোকা, শেলোনোডন প্যাটোকা, টেট্রোডন ডিসুটিডেনস এবং টেট্রোডন কাপ্পা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, পটকা মাছের বিষক্রিয়া সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে হয় না। কারও প্রতিরোধ ক্ষমতা বেশি থাকতে পারে আবার কারও কম থাকতে পারে। সে হিসেবে পটকা মাছ খাওয়ার ২০ মিনিট থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে বিষক্রিয়া শুরু হতে পারে।

জানা যায়, কক্সবাজারের এক শ্রেণির মাছ ব্যবসায়ী এই পটকা মাছ আহরণ করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। চট্টগ্রাম ও ঢাকায় তাদের নির্দিষ্ট কিছু লোক আছে। ২০১২ সাল থেকে কক্সবাজার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হয়ে পটকা মাছের চালান নিয়ে যাচ্ছে এই ব্যবসায়ীরা। পরিচিত মাছ না হওয়ায় তেমন একটা নজরে আসেনা এই পটকা।

আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র হয়ে পটকা মাছ নিয়ে যাচ্ছে এই ব্যবসায়ীরা। নিষিদ্ধ ও বিষাক্ত জেনেও সংশ্লিষ্টরা আছেন চুপেচাপে। মৎস্য অবতরণ ও মৎস্য অফিসের কর্মরতরা সব জেনেও জেন না জানে। অবতরণ কেন্দ্র সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যসায়ীদের সাথে কথা বলে এই তথ্য পাওয়া যায়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, পটকা মাছ বিক্রি হচ্ছে তেমন কোথাও খবর পায়নি।

মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইয়াছিন বলেন, পটকা মাছ বিশেষ একটি ঔষধের জন্য খুবই কার্যকর। এজন্য জেলেদের জালে ধরা পড়লে সেগুলো ছেড়ে না দিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ব্যবসায়িরা সস্তা দামে কিনে নেয়।

মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষাক্ত একটি পটকা মাছের বিষে কমপক্ষে ৩০ জন মারা যেতে পারে। প্রতি বছর এই মাছ খেয়ে মানুষ মারা গেলেও বাংলাদেশে তেমন একটা গবেষণা হয়নি। গবেষণা হলে প্রাণহানি বন্ধের পাশাপাশি হয়তো বিষ কাজে লাগ‍ানো যেতো।

http://এইচ/কে