ঢাকা ০৫:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন ব্রাহ্মণপাড়ার কৃতি সন্তান মোঃ মুমিনুল ইসলাম ইনটেলে যোগ দিচ্ছেন জবি রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জিহাদ অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, দোকান-মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় ইলিয়াস আলীকে গুমের কারণ জানালেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন মাগুরায় অসচ্ছল পরিবারের বাড়িতে ঈদ বাজার পৌঁছে দিল জাহানারা বেগম ফাউন্ডেশন দ্যা রয়েল কারাতে-দো এসোসিয়েশনের ইফতার ও নতুন কমিটি গঠন এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লা মেট্রোপলিটনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ শ্রীপুরে ভিজিএফ তালিকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ সুরেশ্বর দরবারে খাদেম হত্যা: গদীনশীন পীর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে কোরআন-হাদিসের আলোকে যে শাস্তি পাবেন

মাহমুদ ই আলম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ৯৭১০ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ইমান-আমল, জ্ঞান ও চারিত্রিক গুণাবলিকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। সে কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে যেমন নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি, তেমনি প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তি সৎ-যোগ্য, জ্ঞানী-গুণী, চরিত্রবান, খোদাভীরু, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, দেশপ্রেমিক, মানবদরদি ও দায়িত্বানুভূতিসম্পন্ন হওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে কোরআন-হাদিসের আলোকে যে শাস্তি পাবেন

ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, ভোটের মধ্যে যে তিনটি (সাক্ষ্য প্রদান, সুপারিশ, প্রতিনিধিত্বের সনদপ্রদান) বিষয় রয়েছে, এর মধ্যে ‘শাহাদত’ বা সাক্ষ্যের বিষয়টি মৌলিক। অর্থাৎ কাউকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো, তার ব্যাপারে এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, লোকটি ভালো এবং যোগ্য।

এখন যদি যথাযথ জায়গায় সীল দিয়ে এ সাক্ষ্য প্রদান করা হয়, তবে তা হবে সত্য সাক্ষী। অন্যথায় মিথ্যা সাক্ষী হবে। আর মিথ্যা সাক্ষ্য যে কত বড় কবিরা গোনাহ ও হারাম কাজ, তা কারোরই অজানা নয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে লোক সৎকাজের জন্য কোনো সাক্ষ্য দেবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, সে তার পাপের একটি অংশ পাবে।’ (সুরা নিসা : ৮৫)।

এই আয়াতে সুপারিশকে ভালো ও মন্দ দুভাগে বিভক্ত করে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সুপারিশ যেমন মন্দ নয়, তেমনি প্রত্যেক সুপারিশ ভালোও নয়। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ভালো সুপারিশ (নির্বাচন) করবে, সে সওয়াবের অংশ পাবে এবং যে ব্যক্তি মন্দ সুপারিশ করবে, সে আজাবের অংশ পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কারও বৈধ অধিকার ও বৈধ কাজের জন্য বৈধ পন্থায় সুপারিশ করবে, সেও সওয়াবের অংশ পাবে।

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছ, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের কিংবা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তদাপিও।’ (সুরা নিসা : ১৩৫)।

সহিহ বোখারির একটি বর্ণনায় হজরত আবু বকর (রা.) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা এক জায়গায় হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় তিন তিনবার সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি কি তোমাদের কবিরা গোনাহগুলোর মধ্যে বড় কবিরা গোনাহের কথা বলব?’ সাহাবিগণ হ্যাঁ-সূচক উত্তর দেওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা (এ দুটি কথা বলার পর তিনি সোজা হয়ে বসলেন) এবং বললেন, শুনে নাও! মিথ্যা সাক্ষ্য অনেক বড় কবিরা গোনাহ।’ (বোখারি : ৬৯১৯)

এ ছাড়া মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে ব্যক্তির নেক আমল নষ্ট হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আর মূর্খতা পরিহার করল না; আল্লাহর কাছে তার পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বোখারি: ১৯০৩)

উল্লেখ্য, নির্বাচনে যদি আপনার কাছে কাউকে উপযুক্ত মনে না হয়, নিরাপদ পরিবেশ আছে বলে মনে না হয়, তাহলে ভোট না দিলে গোনাহ হবে না বলে জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ভোট দেওয়া ফরজ-কিংবা ওয়াজিব না। তবে দিলে অবশ্যই আপনাকে দায়িত্বশীলতা, আমানতদারিতার সঙ্গে দ্বীন, ইসলাম রাষ্ট্র ও মানুষের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে দিতে হবে। তবে আপনি ভোট না দিলে কেউ যদি কোনো সুবিধা পায়, তবে সেটাও করা উচিত না। এখানে আপনার অ্যাক্টিভিটিসির ফল কী হতে পারে, এটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
04 February 2026

অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে কোরআন-হাদিসের আলোকে যে শাস্তি পাবেন

www.Bangladesherbarta.com

অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে কোরআন-হাদিসের আলোকে যে শাস্তি পাবেন

আপডেট সময় : ১১:৩৪:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ক্ষেত্রে ইসলাম সর্বদা ব্যক্তির সততা, যোগ্যতা, খোদাভীতি, ইমান-আমল, জ্ঞান ও চারিত্রিক গুণাবলিকে প্রাধান্য দিয়ে এসেছে। সে কারণে ইসলামের দৃষ্টিতে যেমন নির্বাচন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হওয়া জরুরি, তেমনি প্রার্থী বা নির্বাচিত ব্যক্তি সৎ-যোগ্য, জ্ঞানী-গুণী, চরিত্রবান, খোদাভীরু, আমানতদার, ন্যায়পরায়ণ, দেশপ্রেমিক, মানবদরদি ও দায়িত্বানুভূতিসম্পন্ন হওয়া আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

অযোগ্য প্রার্থীকে ভোট দিলে কোরআন-হাদিসের আলোকে যে শাস্তি পাবেন

ইসলামি গবেষণা পত্রিকা মাসিক আল কাউসারে বলা হয়েছে, ভোটের মধ্যে যে তিনটি (সাক্ষ্য প্রদান, সুপারিশ, প্রতিনিধিত্বের সনদপ্রদান) বিষয় রয়েছে, এর মধ্যে ‘শাহাদত’ বা সাক্ষ্যের বিষয়টি মৌলিক। অর্থাৎ কাউকে ভোট দেওয়ার অর্থ হলো, তার ব্যাপারে এ সাক্ষ্য প্রদান করা যে, লোকটি ভালো এবং যোগ্য।

এখন যদি যথাযথ জায়গায় সীল দিয়ে এ সাক্ষ্য প্রদান করা হয়, তবে তা হবে সত্য সাক্ষী। অন্যথায় মিথ্যা সাক্ষী হবে। আর মিথ্যা সাক্ষ্য যে কত বড় কবিরা গোনাহ ও হারাম কাজ, তা কারোরই অজানা নয়।

পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যে লোক সৎকাজের জন্য কোনো সাক্ষ্য দেবে, তা থেকে সেও একটি অংশ পাবে। আর যে লোক মন্দ কাজের জন্য সুপারিশ করবে, সে তার পাপের একটি অংশ পাবে।’ (সুরা নিসা : ৮৫)।

এই আয়াতে সুপারিশকে ভালো ও মন্দ দুভাগে বিভক্ত করে বলা হয়েছে, প্রত্যেক সুপারিশ যেমন মন্দ নয়, তেমনি প্রত্যেক সুপারিশ ভালোও নয়। আরও বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি ভালো সুপারিশ (নির্বাচন) করবে, সে সওয়াবের অংশ পাবে এবং যে ব্যক্তি মন্দ সুপারিশ করবে, সে আজাবের অংশ পাবে। সুতরাং যে ব্যক্তি কারও বৈধ অধিকার ও বৈধ কাজের জন্য বৈধ পন্থায় সুপারিশ করবে, সেও সওয়াবের অংশ পাবে।

অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছ, ‘হে ঈমানদারগণ, তোমরা ন্যায়ের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং ন্যায়সংগত সাক্ষ্যদান করো, তাতে তোমাদের নিজের কিংবা পিতা-মাতার অথবা নিকটবর্তী আত্মীয়-স্বজনের যদি ক্ষতি হয় তদাপিও।’ (সুরা নিসা : ১৩৫)।

সহিহ বোখারির একটি বর্ণনায় হজরত আবু বকর (রা.) বলেন যে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একদা এক জায়গায় হেলান দিয়ে বসা অবস্থায় তিন তিনবার সাহাবিদের জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি কি তোমাদের কবিরা গোনাহগুলোর মধ্যে বড় কবিরা গোনাহের কথা বলব?’ সাহাবিগণ হ্যাঁ-সূচক উত্তর দেওয়ার পর তিনি বললেন, ‘আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা, পিতা-মাতার অবাধ্যতা (এ দুটি কথা বলার পর তিনি সোজা হয়ে বসলেন) এবং বললেন, শুনে নাও! মিথ্যা সাক্ষ্য অনেক বড় কবিরা গোনাহ।’ (বোখারি : ৬৯১৯)

এ ছাড়া মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে ব্যক্তির নেক আমল নষ্ট হয়ে যায়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা এবং সে অনুযায়ী আমল করা আর মূর্খতা পরিহার করল না; আল্লাহর কাছে তার পানাহার বর্জনের কোনো প্রয়োজন নেই।’ (বোখারি: ১৯০৩)

উল্লেখ্য, নির্বাচনে যদি আপনার কাছে কাউকে উপযুক্ত মনে না হয়, নিরাপদ পরিবেশ আছে বলে মনে না হয়, তাহলে ভোট না দিলে গোনাহ হবে না বলে জানিয়েছেন ইসলামি স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহ।

নিজের ভেরিফায়েড ইউটিউব চ্যানেলে এক আলোচনায় তিনি বলেন, ভোট দেওয়া ফরজ-কিংবা ওয়াজিব না। তবে দিলে অবশ্যই আপনাকে দায়িত্বশীলতা, আমানতদারিতার সঙ্গে দ্বীন, ইসলাম রাষ্ট্র ও মানুষের সামগ্রিক স্বার্থ বিবেচনা করে দিতে হবে। তবে আপনি ভোট না দিলে কেউ যদি কোনো সুবিধা পায়, তবে সেটাও করা উচিত না। এখানে আপনার অ্যাক্টিভিটিসির ফল কী হতে পারে, এটার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে।

Share this news as a Photo Card