ঢাকা ০৪:১৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
আলোকিত সুফি সাধক সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) ব্রাহ্মণপাড়ায় মায়ের খোজে দিশেহারা ২ বছরের আবদুল্লাহ কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও কালচারাল ডে অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ময়নামতি মিশন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক নিয়ােগ বিজ্ঞপ্তি তদন্তে আসা পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম গ্রেপ্তার ২ নারী “আমাদের স্বপ্ন যুব সংঘ” সংগঠনের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন আদ-দ্বীন হাসপাতালে বিস্কুটের ফ্যাক্টরি সন্ধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০১:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২২
  • / ৯৭০৮ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফারজানা রহমান সম্পা:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পুর্ণ প্রতিরোধ করা না গেলে ও প্রশমন করা যায়, তবে তার জন্য দরকার প্রাথমিক শিক্ষা এবং কিছু পূর্ব প্রস্তুতি।

গোটা বিশ্বজুড়ে ১৩ই অক্টোবর দিনটি পালন করা হয় আন্তজার্তিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস হিসেবে।প্রতি বছর এই দিনটির জন্য একটি বিষয় নির্ধারন হয়ে থাকে।
এ বছর এ দিনটির জন্য প্রতিপাদ্য নির্ধারন করা হয়েছে–“দুর্যোগে আগাম সতর্কবার্তা, সবার জন্য কার্যব্যবস্থা”।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ।

“আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস -২০২২”
উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতার এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঝড়-ঝঞ্ঝা ইত্যাদি এখন যেন প্রকৃতির স্বাভাবিক ব্যাপার।

এইসব বিপর্যয়ের কারণে, প্রকৃতির প্রচন্ড তান্ডবলীলায় সারাবিশ্ব বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শুধু সম্পত্তির ক্ষতিই নয়, মানুষের মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়।প্রতি বছর প্রাণ হারায় হাজারো মানুষ। ফলে দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন।

এই দুর্যোগের হাত এড়িয়ে যাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে মানুষ আগে থেকেই এমন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে যার ফলে সম্পত্তি এবং বিপর্যয়জনিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো – প্রত্যেকটি মানুষ এবং সমস্ত দেশের সরকারকে আরও বেশি করে দুর্যোগ মোকাবিলা গোষ্ঠী গড়ে তোলার কথা বলা৷ কী কী উপায়ে প্রকৃতির রোষানলের ফলে সংঘটিত ব্যাক্তিগত, সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর হার কমানো যেতে পারে সে বিষয় সম্পর্কে বলা,বিশ্বব্যাপী মানুষকে দুর্যোগ মোকাবেলার পাঠ দেয়া,এবং এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে সম্পত্তি এবং জীবন বাঁচানো যে সম্ভব সে বিষয়ে মানুষকে আরো অধিক সচেতন করে তোলা।

আর এই প্রেক্ষাপটেই পালিত হয় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। এই বিশেষ দিনটি পালনের জন্য বিভিন্ন দেশে সভা সমিতির আয়োজন করা হয়। পোস্টার, লিফলেটের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাবার নানা পন্থা প্রচার করা হয়, টেলিভিশনে বিশেষজ্ঞরা টক শো-এর মাধ্যমে মানুষকে বিবিধপ্রকার বিপর্যয়ের ধরণ এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বিশ্লেষণ করে বলেন।এছাড়াও কোথাও বা ভূমিকম্প এবং অগ্নিকাণ্ডের মহড়ার ব্যবস্থা করা হয় সহজে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে। এসব ছাড়াও আরও বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে বিপর্যয় মোকাবিলার পাঠ দেবার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

১৯৮৯ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে প্রস্তাবিত একটি সঙ্কল্পের উপর ভিত্তি করে(৯০-৯৯)পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারন পরিষদ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমনের দশক হিসেবে নির্বাচন করেছিলো।

যেখানে বলা হয়েছিল প্রতি অক্টোবর মাসের বুধবার বিপর্যয় প্রশমন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এই দশকটির মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রাকৃতিক বিপর্যয় জনিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রাণহানি হ্রাস করা।

২০০২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় হ্রাসকরণের একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য, দুর্যোগ প্রশমনের প্রস্তুতির প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে একটি বার্ষিক উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তা কেবল একটি দশকেই আর সীমাবদ্ধ থাকল না।

অবশেষে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ ১৩ অক্টোবর দিনটিকে বেছে নেয় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগ প্রশমনকেন্দ্রিক একটি বিশেষ দিবস পালনের জন্য।

এইচ/কে

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
12 October 2022

আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস

www.Bangladesherbarta.com

আজ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস

আপডেট সময় : ০১:৫১:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অক্টোবর ২০২২

ফারজানা রহমান সম্পা:

প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্পুর্ণ প্রতিরোধ করা না গেলে ও প্রশমন করা যায়, তবে তার জন্য দরকার প্রাথমিক শিক্ষা এবং কিছু পূর্ব প্রস্তুতি।

গোটা বিশ্বজুড়ে ১৩ই অক্টোবর দিনটি পালন করা হয় আন্তজার্তিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস হিসেবে।প্রতি বছর এই দিনটির জন্য একটি বিষয় নির্ধারন হয়ে থাকে।
এ বছর এ দিনটির জন্য প্রতিপাদ্য নির্ধারন করা হয়েছে–“দুর্যোগে আগাম সতর্কবার্তা, সবার জন্য কার্যব্যবস্থা”।
দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতে জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ।

“আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস -২০২২”
উদযাপন উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ বেতার এ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারনে প্রাকৃতিক দুর্যোগ দিন দিন বেড়েই চলেছে। ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, ঝড়-ঝঞ্ঝা ইত্যাদি এখন যেন প্রকৃতির স্বাভাবিক ব্যাপার।

এইসব বিপর্যয়ের কারণে, প্রকৃতির প্রচন্ড তান্ডবলীলায় সারাবিশ্ব বিপুল ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়। শুধু সম্পত্তির ক্ষতিই নয়, মানুষের মৃত্যুর কারণও হয়ে দাঁড়ায়।প্রতি বছর প্রাণ হারায় হাজারো মানুষ। ফলে দুর্যোগ মোকাবেলায় ব্যাপক প্রস্তুতি প্রয়োজন।

এই দুর্যোগের হাত এড়িয়ে যাওয়া মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, কিন্তু দুর্যোগের পূর্বাভাস পেয়ে মানুষ আগে থেকেই এমন কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে যার ফলে সম্পত্তি এবং বিপর্যয়জনিত মৃত্যু রোধ করা সম্ভব।

এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো – প্রত্যেকটি মানুষ এবং সমস্ত দেশের সরকারকে আরও বেশি করে দুর্যোগ মোকাবিলা গোষ্ঠী গড়ে তোলার কথা বলা৷ কী কী উপায়ে প্রকৃতির রোষানলের ফলে সংঘটিত ব্যাক্তিগত, সামাজিক ক্ষয়ক্ষতি ও মৃত্যুর হার কমানো যেতে পারে সে বিষয় সম্পর্কে বলা,বিশ্বব্যাপী মানুষকে দুর্যোগ মোকাবেলার পাঠ দেয়া,এবং এসব প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে সম্পত্তি এবং জীবন বাঁচানো যে সম্ভব সে বিষয়ে মানুষকে আরো অধিক সচেতন করে তোলা।

আর এই প্রেক্ষাপটেই পালিত হয় আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস। এই বিশেষ দিনটি পালনের জন্য বিভিন্ন দেশে সভা সমিতির আয়োজন করা হয়। পোস্টার, লিফলেটের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি কমাবার নানা পন্থা প্রচার করা হয়, টেলিভিশনে বিশেষজ্ঞরা টক শো-এর মাধ্যমে মানুষকে বিবিধপ্রকার বিপর্যয়ের ধরণ এবং তা থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় বিশ্লেষণ করে বলেন।এছাড়াও কোথাও বা ভূমিকম্প এবং অগ্নিকাণ্ডের মহড়ার ব্যবস্থা করা হয় সহজে জনসচেতনতা তৈরির উদ্দেশ্যে। এসব ছাড়াও আরও বিভিন্ন উপায়ে মানুষকে বিপর্যয় মোকাবিলার পাঠ দেবার চেষ্টা করা হয়ে থাকে।

১৯৮৯ সালের ২২ ডিসেম্বর তারিখে প্রস্তাবিত একটি সঙ্কল্পের উপর ভিত্তি করে(৯০-৯৯)পর্যন্ত সময়কালকে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারন পরিষদ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমনের দশক হিসেবে নির্বাচন করেছিলো।

যেখানে বলা হয়েছিল প্রতি অক্টোবর মাসের বুধবার বিপর্যয় প্রশমন দিবস হিসেবে পালন করা হবে। এই দশকটির মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমে বিশেষত উন্নয়নশীল দেশগুলির প্রাকৃতিক বিপর্যয় জনিত সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এবং প্রাণহানি হ্রাস করা।

২০০২ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ বিশ্বব্যাপী বিপর্যয় হ্রাসকরণের একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলার জন্য, দুর্যোগ প্রশমনের প্রস্তুতির প্রচারের লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে একটি বার্ষিক উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে তা কেবল একটি দশকেই আর সীমাবদ্ধ থাকল না।

অবশেষে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদ ১৩ অক্টোবর দিনটিকে বেছে নেয় আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্যোগ প্রশমনকেন্দ্রিক একটি বিশেষ দিবস পালনের জন্য।

এইচ/কে

Share this news as a Photo Card