ঢাকা ০৮:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
আলোকিত সুফি সাধক সৈয়দ আবুল ওলা (রহ.) ব্রাহ্মণপাড়ায় মায়ের খোজে দিশেহারা ২ বছরের আবদুল্লাহ কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজের আয়োজনে ঈদ পুনর্মিলনী ও কালচারাল ডে অনুষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধান ফোরামের ঈদ পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত ময়নামতি মিশন স্কুল এন্ড কলেজে শিক্ষক নিয়ােগ বিজ্ঞপ্তি তদন্তে আসা পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম গ্রেপ্তার ২ নারী “আমাদের স্বপ্ন যুব সংঘ” সংগঠনের ৬ষ্ঠ বর্ষপূর্তি উদযাপন আদ-দ্বীন হাসপাতালে বিস্কুটের ফ্যাক্টরি সন্ধান, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত দল ঘোষণা আর্জেন্টিনার ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে ট্রাক উল্টে নিহত ১৫

কুতুবদিয়াতে সাগরের ভাঙনে বারবার ঘর হারিয়েও, পাড়েই পাঁচশো পরিবারের বসতি দ্বীপ 

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২
  • / ৯৬৮৯ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আজিজ উদ্দিন।।

কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস প্রায় পাঁচশতাধিক পরিবারের। অনেকটা অনিশ্চিত এক সুতোয় বাঁধা বসতি তাদের।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার জীবনের সর্বস্থ হারিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারা মানুষগুলোর দাবী জিও ব্যাগ বা একটি টেকসই বেড়িবাঁধের। প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (০৩অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াজ বলেন। আমার ৮০ বছর বয়সে জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখিন হয়েছি। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে সাগরজলে ভেসে প্রাণ গেছে আমার চার মেয়ে। দুই কানি জমি ছিল।

তাও তলিয়ে গেছে সমুদ্রের করাল গ্রাসে। সেইসব কথা মনে পড়লে এখনও চোখ পানি টলমর করে। চরম ঝুঁকি আছে জেনেও বেড়িবাঁধের বাইরে সাগরপাড়েই আমার পরিবারের বসতি।

আব্দুল ওয়াজ আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় হয়, ঘরবাড়ি ভাঙে। আমরা কোথায় যাবো? আমাদের বাপ-দাদারাও এখানে বসবাস করে গেছে। আমরাও বসবাস করছি।

কৈয়ারবিল এলাকায় আব্দুল ওয়াজের পরিবারের মতোই ঝুঁকি নিয়ে বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস ২২০ পরিবারের। আর একশ’ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ কুতুবদিয়ায় এমন বসবাসকারি পরিবারের সংখ্যা পাঁচশো’র বেশি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। যারা প্রতিনিয়ত সাগরের ঢেউয়ের সাথে অনেকটা যুদ্ধ করে টিকে আছেন।

কুতুবদিয়ার জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, একসময় এইসব বসতি থেকে সমুদ্র অনেক দূরে ছিলো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সাগরের গ্রাসে বিলীন হয়ে ছোট হয়ে আসছে ভূখন্ড। বারবার তারা ঘরহারা হন, বারবার বসতি গড়েন। বেড়িবাঁধের বাইরে এ যেন অনিশ্চিত এক ‘সুতোয় বাঁধা’ বসতি।

কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইনিয়ন পরিষদের সদস্য মীর কাশেম বলেন, যেসব স্থানে ঝুঁকি নিয়ে বেড়িবাঁধের বাইরে লোকজন বসবাস করছে সেখানে জিও ব্যাগ বসালে বা টেকসই বাঁধ হলে বসতি ও প্রাণ দুটো’ই রক্ষা করা সম্ভব হবে। আমরা চাই এখানে দ্রুত জিওব্যাগ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে এইসব এলাকা কিভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি কারিগরি দল সমীক্ষা চালাবে। এরপর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর তঞ্চ্যঙ্গা।

তিনি বলেন, এই মানুষগুলোকে বেড়িবাঁধের ভেতরে আনতে গেলে তাদের নিজস্ব জমি লাগবে। এই মানুষগুলোর নিরাপত্তার জন্য তাদের যে দাবী সে ব্যাপারে আমাদের সুযোগ থাকলে আমরা কাজ করবো।

কুতুবদিয়া দ্বীপে বর্তমানে দেড় লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ঝড়-জলোচ্ছাসে বিভিন্ন সময় দ্বীপটি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
03 November 2022

কুতুবদিয়াতে সাগরের ভাঙনে বারবার ঘর হারিয়েও, পাড়েই পাঁচশো পরিবারের বসতি দ্বীপ 

www.Bangladesherbarta.com

কুতুবদিয়াতে সাগরের ভাঙনে বারবার ঘর হারিয়েও, পাড়েই পাঁচশো পরিবারের বসতি দ্বীপ 

আপডেট সময় : ০৭:৫৩:২৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ নভেম্বর ২০২২

আজিজ উদ্দিন।।

কক্সবাজার জেলার দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ায় বেড়িবাঁধের বাইরে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস প্রায় পাঁচশতাধিক পরিবারের। অনেকটা অনিশ্চিত এক সুতোয় বাঁধা বসতি তাদের।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার জীবনের সর্বস্থ হারিয়ে মাথা তুলে দাঁড়াতে না পারা মানুষগুলোর দাবী জিও ব্যাগ বা একটি টেকসই বেড়িবাঁধের। প্রশাসন বলছে, এ বিষয়ে সমীক্ষা চালিয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (০৩অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল ওয়াজ বলেন। আমার ৮০ বছর বয়সে জীবনে বহু ঘাত-প্রতিঘাতের সম্মুখিন হয়েছি। ১৯৯১ সালের প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড়ে সাগরজলে ভেসে প্রাণ গেছে আমার চার মেয়ে। দুই কানি জমি ছিল।

তাও তলিয়ে গেছে সমুদ্রের করাল গ্রাসে। সেইসব কথা মনে পড়লে এখনও চোখ পানি টলমর করে। চরম ঝুঁকি আছে জেনেও বেড়িবাঁধের বাইরে সাগরপাড়েই আমার পরিবারের বসতি।

আব্দুল ওয়াজ আরো বলেন, ঘূর্ণিঝড় হয়, ঘরবাড়ি ভাঙে। আমরা কোথায় যাবো? আমাদের বাপ-দাদারাও এখানে বসবাস করে গেছে। আমরাও বসবাস করছি।

কৈয়ারবিল এলাকায় আব্দুল ওয়াজের পরিবারের মতোই ঝুঁকি নিয়ে বেড়িবাঁধের বাইরে বসবাস ২২০ পরিবারের। আর একশ’ বর্গকিলোমিটার আয়তনের দ্বীপ কুতুবদিয়ায় এমন বসবাসকারি পরিবারের সংখ্যা পাঁচশো’র বেশি বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। যারা প্রতিনিয়ত সাগরের ঢেউয়ের সাথে অনেকটা যুদ্ধ করে টিকে আছেন।

কুতুবদিয়ার জেলা পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম ভুট্টো বলেন, একসময় এইসব বসতি থেকে সমুদ্র অনেক দূরে ছিলো। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় সাগরের গ্রাসে বিলীন হয়ে ছোট হয়ে আসছে ভূখন্ড। বারবার তারা ঘরহারা হন, বারবার বসতি গড়েন। বেড়িবাঁধের বাইরে এ যেন অনিশ্চিত এক ‘সুতোয় বাঁধা’ বসতি।

কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল ইনিয়ন পরিষদের সদস্য মীর কাশেম বলেন, যেসব স্থানে ঝুঁকি নিয়ে বেড়িবাঁধের বাইরে লোকজন বসবাস করছে সেখানে জিও ব্যাগ বসালে বা টেকসই বাঁধ হলে বসতি ও প্রাণ দুটো’ই রক্ষা করা সম্ভব হবে। আমরা চাই এখানে দ্রুত জিওব্যাগ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হোক।

প্রাকৃতিক দুর্যোগে এইসব এলাকা কিভাবে রক্ষা করা যায় তা নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি কারিগরি দল সমীক্ষা চালাবে। এরপর প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর তঞ্চ্যঙ্গা।

তিনি বলেন, এই মানুষগুলোকে বেড়িবাঁধের ভেতরে আনতে গেলে তাদের নিজস্ব জমি লাগবে। এই মানুষগুলোর নিরাপত্তার জন্য তাদের যে দাবী সে ব্যাপারে আমাদের সুযোগ থাকলে আমরা কাজ করবো।

কুতুবদিয়া দ্বীপে বর্তমানে দেড় লাখের বেশি মানুষের বসবাস। ঝড়-জলোচ্ছাসে বিভিন্ন সময় দ্বীপটি থেকে বাস্তুচ্যুত হয়েছে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ।

Share this news as a Photo Card