ঢাকা ০৫:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি স্ত্রী হত্যা মামলায় জেল খাটেন স্বামী, ১২ বছর পর সেই মৃত স্ত্রী জীবিত উদ্ধার তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার, আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা রয়েলের আছিয়া গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন্স সিংগাইর গ্রাম আদালত পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ পাটগ্রামে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা ও আটক রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন রসুলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের দীক্ষা অনুষ্ঠিত

রাবির নান্দনিক হোটেলের মানবিক উদ্যোগ /‘সাসপেন্স মিল’

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২
  • / ৯৭৩৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক,রাবি॥

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাদারবক্স হল হয়ে স্টেশন বাজারে যেতে প্রথমেই চোখ পড়ে নান্দনিক হোটেলের দিকে। হোটেলে প্রবেশ করতেই দেখা মেলে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত কিছু লিফলেট। ‘সাসপেন্স মিল চালু রাখতে পারেন ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য’, ‘সাসপেন্স মিল আছে কি না খোঁজ করুন’, ‘অযথা ঋণ করবেন না’ ইত্যাদি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশন বাজারের নান্দনিক হোটেলে অসহায় ও ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সাসপেন্স মিল চালু করেছেন হোটেলটির মালিক বাবু কর্মকার। বিষয়টি সবার নজর কেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাসপেন্স মিলের উদ্ভাবক ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)। মুসলিম খেলাফতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশে তাদের রেস্তোরাঁগুলো এই পদ্ধতি চালু আছে। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চালু হলো ‘সাসপেন্স মিল’।

সাসপেন্স মিল কী:
আপনি খাবার খেয়ে ক্যাশ কাউন্টারে বিল দিলেন। আপনি চাইলে আরেকজন মানুষের খাওয়ার মতো অতিরিক্ত আরেকটি মিলের টাকা হোটেল মালিকের কাছে রেখে দিতে পারেন।

পরে ওই টাকায় আরেকজন খেতে পারবেন। কিন্তু তিনি জানতে পারবেন না তার টাকায় তিনি খাচ্ছেন। অনেক বুঝতে দেন না যে তিনি অর্থকষ্টে আছেন। লোক-লজ্জায় কারও কাছে বলতেও পারেন না। তাদের জন্য এই সাসপেন্স মিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘সাসপেন্স মিল সিস্টেম চালু নিঃসন্দেহে একটা ভালো উদ্যোগ। এ সিস্টেমের ফলে অসচ্ছল শিক্ষার্থী বা ক্ষুধার্ত ব্যক্তিরাও সাসপেন্স মিল খেতে পারবেন।

তবে আমরা যারা সচ্ছল শিক্ষার্থী আছি নিজে খেয়ে কিছু অর্থ সাসপেন্স মিলের জন্য রেখে যাওয়া উচিত। আমার রেখে যাওয়া অর্থ অন্যের ক্ষুধা মেটাতে সাহায্য করবে।’

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাসপেন্স মিল কী সেটাই জানতাম না। যখন এর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম তখন মনে হলো দোকান মালিককে ধন্যবাদ জানাই। এখানে শিক্ষার্থীরা হাত বাড়িয়ে দিলে ক্ষুধার্তরা একবেলা খাবার খেতে পারবেন। সবাইকে মানবিক এ কাজে এগিয়ে আসা উচিত।’

হোটেল মালিক বাবু কর্মকার বলেন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমনও অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা টাকার অভাবে পেটপুরে খেতে পারে না।

তিনবেলার মধ্যে একবেলা খায় এমন শিক্ষার্থী অনেক দেখেছি তাদের জন্য এই সাসপেন্স মিল সিস্টেম চালু করেছি। কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা নিজের সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারে না এবং অনেক সময় বলেও কোনো উপকার পায়না তার। অসচ্ছল ক্ষুদার্তদের নিজের অর্থায়নে খাওয়ানো আমার একার পক্ষে সম্ভব না।

ফলে যেসকল শিক্ষার্থী নিজে খেয়ে অন্যকে খাওয়ানোর জন্য সাসপেন্স মিলের জন্য কিছু টাকা রেখে যায় আর তাদের টাকা দিয়ে ক্ষুদার্তরা একবেলা পেটপুরে খেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদে অতিরিক্ত টাকা আমি এক বক্সে রাখি,কোনো অসচ্ছল শিক্ষার্থী ৩০ টাকার খাবার খেলে তখন সেই বক্স থেকে ৩০ টাকা নিয়ে আমি আমার ক্যাশে রাখি।

একমাস হয়েছে এ সিস্টেম চালু করেছি শিক্ষার্থীরা ভালো সাড়া দিচ্ছে। আজকেও দুজন সাসপেন্স মিল খেয়েছে,সাড়া পেতে থাকলে এ সিস্টেম চালু রাখবেন বলে জানান এ হোটেল মালিক।

এইচ/কে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

রাবির নান্দনিক হোটেলের মানবিক উদ্যোগ /‘সাসপেন্স মিল’

আপডেট সময় : ০৫:১৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২২

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক,রাবি॥

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) মাদারবক্স হল হয়ে স্টেশন বাজারে যেতে প্রথমেই চোখ পড়ে নান্দনিক হোটেলের দিকে। হোটেলে প্রবেশ করতেই দেখা মেলে বিভিন্ন লেখা সম্বলিত কিছু লিফলেট। ‘সাসপেন্স মিল চালু রাখতে পারেন ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য’, ‘সাসপেন্স মিল আছে কি না খোঁজ করুন’, ‘অযথা ঋণ করবেন না’ ইত্যাদি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) স্টেশন বাজারের নান্দনিক হোটেলে অসহায় ও ক্ষুধার্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সাসপেন্স মিল চালু করেছেন হোটেলটির মালিক বাবু কর্মকার। বিষয়টি সবার নজর কেড়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাসপেন্স মিলের উদ্ভাবক ইসলামের তৃতীয় খলিফা হযরত উসমান (রা.)। মুসলিম খেলাফতের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য উন্নত দেশে তাদের রেস্তোরাঁগুলো এই পদ্ধতি চালু আছে। এবার রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে চালু হলো ‘সাসপেন্স মিল’।

সাসপেন্স মিল কী:
আপনি খাবার খেয়ে ক্যাশ কাউন্টারে বিল দিলেন। আপনি চাইলে আরেকজন মানুষের খাওয়ার মতো অতিরিক্ত আরেকটি মিলের টাকা হোটেল মালিকের কাছে রেখে দিতে পারেন।

পরে ওই টাকায় আরেকজন খেতে পারবেন। কিন্তু তিনি জানতে পারবেন না তার টাকায় তিনি খাচ্ছেন। অনেক বুঝতে দেন না যে তিনি অর্থকষ্টে আছেন। লোক-লজ্জায় কারও কাছে বলতেও পারেন না। তাদের জন্য এই সাসপেন্স মিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাসুদ রানা বলেন, ‘সাসপেন্স মিল সিস্টেম চালু নিঃসন্দেহে একটা ভালো উদ্যোগ। এ সিস্টেমের ফলে অসচ্ছল শিক্ষার্থী বা ক্ষুধার্ত ব্যক্তিরাও সাসপেন্স মিল খেতে পারবেন।

তবে আমরা যারা সচ্ছল শিক্ষার্থী আছি নিজে খেয়ে কিছু অর্থ সাসপেন্স মিলের জন্য রেখে যাওয়া উচিত। আমার রেখে যাওয়া অর্থ অন্যের ক্ষুধা মেটাতে সাহায্য করবে।’

এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অর্থনীতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘সাসপেন্স মিল কী সেটাই জানতাম না। যখন এর আসল উদ্দেশ্য বুঝতে পারলাম তখন মনে হলো দোকান মালিককে ধন্যবাদ জানাই। এখানে শিক্ষার্থীরা হাত বাড়িয়ে দিলে ক্ষুধার্তরা একবেলা খাবার খেতে পারবেন। সবাইকে মানবিক এ কাজে এগিয়ে আসা উচিত।’

হোটেল মালিক বাবু কর্মকার বলেন, অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানোর চিন্তা থেকেই এমন উদ্যোগ নিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের এমনও অনেক শিক্ষার্থী আছে যারা টাকার অভাবে পেটপুরে খেতে পারে না।

তিনবেলার মধ্যে একবেলা খায় এমন শিক্ষার্থী অনেক দেখেছি তাদের জন্য এই সাসপেন্স মিল সিস্টেম চালু করেছি। কিছু শিক্ষার্থী আছে যারা নিজের সমস্যার কথা কাউকে বলতে পারে না এবং অনেক সময় বলেও কোনো উপকার পায়না তার। অসচ্ছল ক্ষুদার্তদের নিজের অর্থায়নে খাওয়ানো আমার একার পক্ষে সম্ভব না।

ফলে যেসকল শিক্ষার্থী নিজে খেয়ে অন্যকে খাওয়ানোর জন্য সাসপেন্স মিলের জন্য কিছু টাকা রেখে যায় আর তাদের টাকা দিয়ে ক্ষুদার্তরা একবেলা পেটপুরে খেতে পারে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষার্থীদে অতিরিক্ত টাকা আমি এক বক্সে রাখি,কোনো অসচ্ছল শিক্ষার্থী ৩০ টাকার খাবার খেলে তখন সেই বক্স থেকে ৩০ টাকা নিয়ে আমি আমার ক্যাশে রাখি।

একমাস হয়েছে এ সিস্টেম চালু করেছি শিক্ষার্থীরা ভালো সাড়া দিচ্ছে। আজকেও দুজন সাসপেন্স মিল খেয়েছে,সাড়া পেতে থাকলে এ সিস্টেম চালু রাখবেন বলে জানান এ হোটেল মালিক।

এইচ/কে