ঢাকা ০৬:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৬ মে ২০২৬, ২৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক হলেন ব্রাহ্মণপাড়ার কৃতি সন্তান মোঃ মুমিনুল ইসলাম ইনটেলে যোগ দিচ্ছেন জবি রসায়ন বিভাগের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জিহাদ অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে ৪টা পর্যন্ত, দোকান-মার্কেট বন্ধ সন্ধ্যা ৬টায় ইলিয়াস আলীকে গুমের কারণ জানালেন সাবেক ডিজিএফআই প্রধান মামুন খালেদ কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপন মাগুরায় অসচ্ছল পরিবারের বাড়িতে ঈদ বাজার পৌঁছে দিল জাহানারা বেগম ফাউন্ডেশন দ্যা রয়েল কারাতে-দো এসোসিয়েশনের ইফতার ও নতুন কমিটি গঠন এপেক্স ক্লাব অব কুমিল্লা মেট্রোপলিটনের ঈদ সামগ্রী বিতরণ শ্রীপুরে ভিজিএফ তালিকা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ সুরেশ্বর দরবারে খাদেম হত্যা: গদীনশীন পীর অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার

তাড়াশে ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলা ৬ এপ্রিল

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ এপ্রিল ২০২৩
  • / ১০০৭১ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সাব্বির মির্জা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

প্রায় দেড়শত বছর আগে জমিদার আমলে গড়ে উঠা তাড়াশের ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলা আগামী ৬ এপ্রিল রোজ বুধবারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা।

প্রতিবছর চৈত্র চন্দ্রিমার ১৩ তারিখে চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলা সদর হতে ১০ কিঃ জমিদার খ্যাত বারুহাস বাজার চত্বরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার দিনব্যাপী মুল মেলা অনুষ্ঠিত হলেও মেলা শুরু হবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই। এ ছাড়া মুল মেলার পরের দিন শুক্রবার ও অনুষ্ঠিত হবে বউ মেলা। এ কারনেই স্থানীয়রা বারুহাস মেলার উৎসব ৩ দিনই মনে করেন। মেলার আয়োজক সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ৭০ দশক থেকে ৯০ দশক সময়েও এ মেলার সুনাম ছিল উত্তর বঙ্গ জুড়ে। অনেক দুর দুরান্তের মানুষ মেলায় আসত। বগুড়া, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনা সহ দুর দুরান্তের জেলা থেকে শৌখিন দর্শনার্থীরা মহিষ ও গরুর গাড়ীর বহর নিয়ে মেলায় আসতেন। মেলার এক পাশে তাবু টানিয়ে করতেন মেলার কেনা কাটা।

সে সময় মুলত বারুহাস মেলা ছিল ২৫ থেক ৩০ গ্রামের মানুষের সব চেয়ে বড় উৎসব। মেলার ১ মাস আগে থেকেই চলতো নানা প্রস্তুতি। বাড়িতে লোক কুটুমকে দাওয়াত করা জামাই ঝি আনা, বাড়ি ঘরের লেপ মোচন, খৈ মুড়ি ভাজা সব মিলে মেলা বাসিরা ১ মাস আগ থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়তো।

জামাইদের উপঢোকন বা পরবি দেওয়া ছিল এ মেলার সব চেয়ে বড় ঐতিহ্য। শশুড় বাড়ির পরবি পেয়ে জামাইরা মাছ,মাংস ও রঙিন হাড়িতে মিষ্টি কিনে শশুড় বাড়িতে ফিরতেন।

এ জন্য সে সময় এ মেলা জামাই মেলা নামেও পরিচিত হয়ে উঠেছিল।

২০০০ সালের পর থেকে মেলার জৌলুস ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এখন মেলার জৌলুস একেবারেই কমে গেছে। এক সময় ২৫ থেকে ৩০ গ্রামের মানুষের প্রাণের উৎসব ছিল বারুহাস মেলা। সেই মেলার উৎসব এখন শুধু বারুহাস গ্রাম কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।

মেলার নির্ধারিত জায়গা সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব সহ নানা কারনে এ মেলার জৌলুস দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একসসয় দেড়শত বছরের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।

Share this news as a Photo Card

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :
03 April 2023

তাড়াশে ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলা ৬ এপ্রিল

www.Bangladesherbarta.com

তাড়াশে ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলা ৬ এপ্রিল

আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ এপ্রিল ২০২৩

সাব্বির মির্জা, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।

প্রায় দেড়শত বছর আগে জমিদার আমলে গড়ে উঠা তাড়াশের ঐতিহ্যবাহী বারুহাস মেলা আগামী ৬ এপ্রিল রোজ বুধবারে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী মেলা।

প্রতিবছর চৈত্র চন্দ্রিমার ১৩ তারিখে চলনবিল অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলা সদর হতে ১০ কিঃ জমিদার খ্যাত বারুহাস বাজার চত্বরে এ মেলা অনুষ্ঠিত হয়।

বুধবার দিনব্যাপী মুল মেলা অনুষ্ঠিত হলেও মেলা শুরু হবে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই। এ ছাড়া মুল মেলার পরের দিন শুক্রবার ও অনুষ্ঠিত হবে বউ মেলা। এ কারনেই স্থানীয়রা বারুহাস মেলার উৎসব ৩ দিনই মনে করেন। মেলার আয়োজক সুত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ৭০ দশক থেকে ৯০ দশক সময়েও এ মেলার সুনাম ছিল উত্তর বঙ্গ জুড়ে। অনেক দুর দুরান্তের মানুষ মেলায় আসত। বগুড়া, শেরপুর, সিরাজগঞ্জ, নাটোর ও পাবনা সহ দুর দুরান্তের জেলা থেকে শৌখিন দর্শনার্থীরা মহিষ ও গরুর গাড়ীর বহর নিয়ে মেলায় আসতেন। মেলার এক পাশে তাবু টানিয়ে করতেন মেলার কেনা কাটা।

সে সময় মুলত বারুহাস মেলা ছিল ২৫ থেক ৩০ গ্রামের মানুষের সব চেয়ে বড় উৎসব। মেলার ১ মাস আগে থেকেই চলতো নানা প্রস্তুতি। বাড়িতে লোক কুটুমকে দাওয়াত করা জামাই ঝি আনা, বাড়ি ঘরের লেপ মোচন, খৈ মুড়ি ভাজা সব মিলে মেলা বাসিরা ১ মাস আগ থেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়তো।

জামাইদের উপঢোকন বা পরবি দেওয়া ছিল এ মেলার সব চেয়ে বড় ঐতিহ্য। শশুড় বাড়ির পরবি পেয়ে জামাইরা মাছ,মাংস ও রঙিন হাড়িতে মিষ্টি কিনে শশুড় বাড়িতে ফিরতেন।

এ জন্য সে সময় এ মেলা জামাই মেলা নামেও পরিচিত হয়ে উঠেছিল।

২০০০ সালের পর থেকে মেলার জৌলুস ধীরে ধীরে কমতে থাকে। এখন মেলার জৌলুস একেবারেই কমে গেছে। এক সময় ২৫ থেকে ৩০ গ্রামের মানুষের প্রাণের উৎসব ছিল বারুহাস মেলা। সেই মেলার উৎসব এখন শুধু বারুহাস গ্রাম কেন্দ্রিক হয়ে গেছে।

মেলার নির্ধারিত জায়গা সংকট, পৃষ্ঠপোষকতার অভাব সহ নানা কারনে এ মেলার জৌলুস দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে একসসয় দেড়শত বছরের এই ঐতিহ্যকে ধরে রাখাই কঠিন হয়ে পড়বে।

Share this news as a Photo Card