ঢাকা ০২:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি স্ত্রী হত্যা মামলায় জেল খাটেন স্বামী, ১২ বছর পর সেই মৃত স্ত্রী জীবিত উদ্ধার তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার, আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা রয়েলের আছিয়া গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন্স সিংগাইর গ্রাম আদালত পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ পাটগ্রামে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা ও আটক রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন রসুলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের দীক্ষা অনুষ্ঠিত

গ্যাস বিস্ফোরণে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ১২:৩০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩
  • / ৯৭১৪ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জবি প্রতিনিধি :

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শাওনের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সহপাঠীরা। পাশাপাশি শাওনের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তারা।

বুধবার (১০মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জবি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, গ্যাস লাইনে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ ছিল। সেখানে ওয়াসার কাজ পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই শাওনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এটাকে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু বলতে পারি না, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

মানববন্ধনে জান্নাত মেহেবুবা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এ দুর্ঘটনার দায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। তাদের অসাবধানতার জন্য আমাদের ভাইকে হারাতে হলো। আমরা এর বিচার চাই। শাওনের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। টিউশন করিয়ে সে পড়ালেখার খরচ চালাত। কিন্তু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আজকে আমাদের শাওনকে হারাতে হলো। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা-মা এখন পাগলপ্রায়। আমরা চাই শাওনের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ধূপখোলার বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শাওন নিহত হয়েছে। সে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চারদিন আইসিইউতে ভর্তি ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাওন মারা যায়। আসলে এ ধরনের মৃত্যু কাম্য নয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। আমরাও চাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করতে। মামলার জন্য আমরা ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা শাওনের চাচার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। কুরিয়ারের মাধ্যমে ওকালতনামা ওদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সই করে আমাদের কাছে আজই পাঠানোর কথা রয়েছে। তারপরই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করব।

উল্লেখ্য, গত ১ মে সকালে গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা বাজারে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় শাওন ধূপখোলায় বাজার করতে গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়। তাকে সেদিন থেকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত ৬ মার্চ সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাওনের মৃত্যু হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

গ্যাস বিস্ফোরণে জবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু: দোষীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন

আপডেট সময় : ১২:৩০:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১০ মে ২০২৩

জবি প্রতিনিধি :

রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান শাওনের মৃত্যুতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সহপাঠীরা। পাশাপাশি শাওনের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানববন্ধন করেছেন তারা।

বুধবার (১০মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে জবি উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে, গ্যাস লাইনে দীর্ঘদিন ধরে লিকেজ ছিল। সেখানে ওয়াসার কাজ পাওয়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণেই শাওনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়। এটাকে আমরা স্বাভাবিক মৃত্যু বলতে পারি না, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।

মানববন্ধনে জান্নাত মেহেবুবা নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, এ দুর্ঘটনার দায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ এড়াতে পারে না। তাদের অসাবধানতার জন্য আমাদের ভাইকে হারাতে হলো। আমরা এর বিচার চাই। শাওনের পরিবারের জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ চাই।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি বলেন, অনেক স্বপ্ন নিয়ে শাওন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিল। টিউশন করিয়ে সে পড়ালেখার খরচ চালাত। কিন্তু তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণেই আজকে আমাদের শাওনকে হারাতে হলো। পরিবারের একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে তার বাবা-মা এখন পাগলপ্রায়। আমরা চাই শাওনের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হোক।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোক্টর অধ্যাপক ড. মোস্তফা কামাল বলেন, ধূপখোলার বিস্ফোরণের ঘটনায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী শাওন নিহত হয়েছে। সে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে চারদিন আইসিইউতে ভর্তি ছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাওন মারা যায়। আসলে এ ধরনের মৃত্যু কাম্য নয়।

তিনি বলেন, এ ঘটনায় গেন্ডারিয়া থানা পুলিশ বাদী হয়ে একটি মামলা করেছে। আমরাও চাচ্ছি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতায় পরিবারের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করতে। মামলার জন্য আমরা ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আমরা শাওনের চাচার সঙ্গে কথা বলেছি। ওর বাবা-মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) আমাদের কাছে পাঠিয়েছে। কুরিয়ারের মাধ্যমে ওকালতনামা ওদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে। সই করে আমাদের কাছে আজই পাঠানোর কথা রয়েছে। তারপরই আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করব।

উল্লেখ্য, গত ১ মে সকালে গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা বাজারে গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের সময় শাওন ধূপখোলায় বাজার করতে গিয়েছিলেন। বিস্ফোরণে তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়। তাকে সেদিন থেকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গত ৬ মার্চ সকালে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাওনের মৃত্যু হয়।