ভোলায় বিরল এক অজানা রোগে আক্রান্ত শিক্ষার্থীরা,যে স্পর্শ সেই আক্রান্ত হচ্ছে
- আপডেট সময় : ০৮:১১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০২৪
- / ৯৯৬২ বার পড়া হয়েছে
ভোলার সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাকালীন সময়ে হঠাৎ এক শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়ে।
তাকে সেবা দিতে গিয়ে আরো ২৯ জন শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। অথাৎ ওই ছাত্রকে যে-ই স্পর্শ করেছে সে-ই অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মার্চ) সকালে পশ্চিম ইলিশা ৪নং ওয়ার্ডে পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
বর্তমানে অসুস্থ্য শিক্ষার্থীরা ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী জিহাদ বলেন, গণিত স্যার আমাদের ক্লাস নিচ্ছিলেন, হঠাৎ করে দেখলাম আমি মাথা ঘুরে পরে যাই।
এমন ভাবে মাথা ব্যাথা উঠছে মনে হয়েছে চুলগুলো উঠিয়ে পেলি। আমার এমন অবস্থা দেখে স্যাররা আমাকে অফিস কক্ষে নিয়ে যায়। পরে আমি অজ্ঞান হয়ে যাই। জ্ঞান ফিরে দেখি আমি হাসপাতালে।
সিয়াম নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমার সাথে একটা ছাত্র হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গেছে। তাকে ধরতে গিয়ে একে একে আমরা ৫০/৩০ জনের মত অসুস্থ্য হয়ে পড়েছি।
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবু সাইদ বলেন, আমি ক্লাস নিচ্ছিলাম এমন সময় জিহাদ অসুস্থ্য হলে তাকে অন্যদের ধরতে বলি। এর কিছুক্ষণ পরেই দেখি যেই ধরে সেই একটা চিৎকার দিয়ে মাথা ঘুরে পরে যায়। আমারও মাথা ঘুরেছে এবং চোঁখ দিয়ে হঠাৎ পানি পরা শুরু করেছে।
আবু কালাম নামের এক অভিভাবক বলেন, স্কুল থেকে এক স্যার আমার বাড়ীতে ফোন দিয়ে বলেছে আমার ছেলে অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। আমি খবর পেয়ে স্কুলে গিয়ে দেখি কেউ মাথা থাপ্পরাচ্ছে আর কেউ অজ্ঞান অবস্থায় আছে। যে ধরে সেই অসুস্থ্য হয়ে যায়। এখন এটা কি রোগ সেটা তো জানিনা।
পশ্চিম চরপাতা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, গণিত ক্লাসে হঠাৎ এক ছাত্র অসুস্থ্য হয়ে পড়ে। আমরা বিষয়টি স্বাভাবিক মনে করে তার বাবা-মাকে খবর দিয়েছিলাম এবং ওই ছাত্রকে প্রাথমিক সেবা দিচ্ছিলাম এর মধ্যেই দেখি যারাই এই ছাত্রকে ধরে সেই একটা চিৎকার দিয়ে মাথা ঘুরে পরে যায়।
পরবর্তীতে জরীরু সেবা ৯৯৯ এ ফোন দিয়ে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে তাদের ভোলা সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছি। প্রধান শিক্ষক আরো জানান স্কুল থেকে বাসায় গিয়েও অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে।
তাদেরকেও হাসপাতালে নিয়ে আসা হচ্ছে।ভোলা সদর হাসপাতালের আরএমও ডাক্তার তৈয়বুর রহমান বলেন,এখন পর্যন্ত এ রোগ শনাক্ত করা যায়নি,এ পর্যন্ত হাসপাতালে ২৪জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এবং আরো আসছে। আমরা সবাইকে চিকিৎসা দিচ্ছি এবং কাউন্সিলর করছি। আশা করি তারা সবাই দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠবেন।














