ঢাকা ০২:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি স্ত্রী হত্যা মামলায় জেল খাটেন স্বামী, ১২ বছর পর সেই মৃত স্ত্রী জীবিত উদ্ধার তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার, আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা রয়েলের আছিয়া গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন্স সিংগাইর গ্রাম আদালত পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ পাটগ্রামে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা ও আটক রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন রসুলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের দীক্ষা অনুষ্ঠিত

শিকারির কাছ থেকে পাখি উদ্ধারের পর রাবি ক্যাম্পাসে অবমুক্ত

বাংলাদেশের বার্তা
  • আপডেট সময় : ০৪:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২
  • / ৯৭৫৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক. রাবি॥

চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক শিকারির কাছ থেকে ৪টি টিয়া পাখি উদ্ধার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে অবমুক্ত করেছেন ডীপ ইকোলজি এন্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশন (ডেসরফ) রাবি শাখা ও রাজশাহী বনবিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাস ভবনের সামনের প্যারিস রোডে পাখিগুলো অবমুক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়াতে টিয়া পাখির বিক্রয় পোস্ট দেখে ডেসরফের কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ নাজমুল হোসেন ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির সামিমা তাসনীম ক্রেতা সেজে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করেন এবং রাজশাহী বনবিভাগকে বিষয়টি অবগত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট বিক্রেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটে পাখি নিয়ে আসতে বলা হয়। এদিকে বিক্রেতা পাখি নিয়ে আসলে তাকে প্যারিস রোডে হাতেনাতে ধরা হয়।

অতঃপর বনবিভাগের কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জরুরি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী আইন ২০১২ অনুযায়ী বিক্রেতাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়।

এ অভিযানের অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মিজানুর রহমান তাসিব। ডেসরফের সদস্য মতিয়ার হোসেন, হৃদয় হোসেন, প্রাচ্য, হাসিবুল হাসান ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে রাজশাহী বনবিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর জাগো নিউজকে বলেন, পাখি পরিবেশের অলংকার ও সমাজের সৌন্দর্য। আমাদের দেশে একশ্রেণি অসাধু লোক যারা বিভিন্ন মাধ্যমে পাখি শিকার করে পরিবেশ নষ্ট করছেন। এমনই এক শিকার করে বিক্রি করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় এক শিক্ষার্থী আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। আমরা তাদের সাথে মিলে শিকারিকে আটক করে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এমন কাজগুলো আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। বন্যপ্রাণীরা অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে সেগুলোকে তারা ঝুঁকি নিয়ে রেসকিউ করে আবার তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় অবমুক্ত করেন। তারা পরিবেশকে কোলাহল মুক্ত রাখার জন্য এ কাজগুলো করে যাচ্ছেন। তাদের এমন কার্ডকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং তাদের এমন কর্মকান্ডের সাথে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতে চাই।

শিক্ষার্থীদের এমন কাজের প্রশংসা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এম. সালেহ রেজা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অনেক টিয়া পাখির বসবাস রয়েছে। আমি ধন্যবাদ জানাই বিশ্ববিদ্যালয় ডেসরফ সংগঠন ও রাজশাহী বনবিভাগকে যারা টিয়া পাখিগুলো উদ্ধার করে তাদের মাতৃকুলে ফিরে যাওয়ার জন্য অবমুক্ত করেছেন।

অবমুক্তের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বন্যবিভাগের কর্মকর্তারা ও ডেসরফ রাবি শাখারা অন্যান্য সদস্যরা।

এইচ/কে

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

শিকারির কাছ থেকে পাখি উদ্ধারের পর রাবি ক্যাম্পাসে অবমুক্ত

আপডেট সময় : ০৪:২৫:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২২

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক. রাবি॥

চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক শিকারির কাছ থেকে ৪টি টিয়া পাখি উদ্ধার করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাসে অবমুক্ত করেছেন ডীপ ইকোলজি এন্ড স্নেক রেসকিউ ফাউন্ডেশন (ডেসরফ) রাবি শাখা ও রাজশাহী বনবিভাগ।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাস ভবনের সামনের প্যারিস রোডে পাখিগুলো অবমুক্ত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা এম তারেক নূর।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সোশ্যাল মিডিয়াতে টিয়া পাখির বিক্রয় পোস্ট দেখে ডেসরফের কর্মী বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ নাজমুল হোসেন ও ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির সামিমা তাসনীম ক্রেতা সেজে বিক্রেতার সাথে যোগাযোগ করেন এবং রাজশাহী বনবিভাগকে বিষয়টি অবগত করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ১৮ আগস্ট বিক্রেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজলা গেটে পাখি নিয়ে আসতে বলা হয়। এদিকে বিক্রেতা পাখি নিয়ে আসলে তাকে প্যারিস রোডে হাতেনাতে ধরা হয়।

অতঃপর বনবিভাগের কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে জরুরি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী আইন ২০১২ অনুযায়ী বিক্রেতাকে শাস্তির আওতায় আনা হয়।

এ অভিযানের অন্য সদস্যরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের মিজানুর রহমান তাসিব। ডেসরফের সদস্য মতিয়ার হোসেন, হৃদয় হোসেন, প্রাচ্য, হাসিবুল হাসান ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে রাজশাহী বনবিভাগের বন্যপ্রাণী পরিদর্শক জাহাঙ্গীর কবীর জাগো নিউজকে বলেন, পাখি পরিবেশের অলংকার ও সমাজের সৌন্দর্য। আমাদের দেশে একশ্রেণি অসাধু লোক যারা বিভিন্ন মাধ্যমে পাখি শিকার করে পরিবেশ নষ্ট করছেন। এমনই এক শিকার করে বিক্রি করতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় এক শিক্ষার্থী আমাদের সাথে যোগাযোগ করেন। আমরা তাদের সাথে মিলে শিকারিকে আটক করে পাখিগুলোকে অবমুক্ত করি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর জাগো নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের এমন কাজগুলো আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করে। বন্যপ্রাণীরা অনেক সময় লোকালয়ে চলে আসে সেগুলোকে তারা ঝুঁকি নিয়ে রেসকিউ করে আবার তাদেরকে নিরাপদ জায়গায় অবমুক্ত করেন। তারা পরিবেশকে কোলাহল মুক্ত রাখার জন্য এ কাজগুলো করে যাচ্ছেন। তাদের এমন কার্ডকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং তাদের এমন কর্মকান্ডের সাথে আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকতে চাই।

শিক্ষার্থীদের এমন কাজের প্রশংসা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এ. এম. সালেহ রেজা। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে অনেক টিয়া পাখির বসবাস রয়েছে। আমি ধন্যবাদ জানাই বিশ্ববিদ্যালয় ডেসরফ সংগঠন ও রাজশাহী বনবিভাগকে যারা টিয়া পাখিগুলো উদ্ধার করে তাদের মাতৃকুলে ফিরে যাওয়ার জন্য অবমুক্ত করেছেন।

অবমুক্তের সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বন্যবিভাগের কর্মকর্তারা ও ডেসরফ রাবি শাখারা অন্যান্য সদস্যরা।

এইচ/কে