ঢাকা ১১:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা রয়েলের আছিয়া গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন্স সিংগাইর গ্রাম আদালত পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ পাটগ্রামে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা ও আটক রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন রসুলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের দীক্ষা অনুষ্ঠিত ৩ প্রতিষ্ঠানের খাদ্যপণ্য বাজার থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ টানা ৫ দিন ভারী বর্ষণের আভাস বেতন স্থবির, কাজের শেষ নেই: শোষণে পিষ্ট বেসরকারি চাকরিজীবী মাদক কেনাবেচার সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড, সংসদে বিল পাস

দেবিদ্বারের নিরাপদ হোটেল’ যেনো এক প্রকাশ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির নাম

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
  • আপডেট সময় : ০২:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
  • / ৯৭৪৬ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পৌরসভার নিউমার্কেট পান বাজার গলিতে অবস্থিত এক খাবারের দোকানের নাম “নিরাপদ হোটেল”। নামটা শুনলে মনে হয় এখানে খেলে বুঝি স্বাস্থ্য একদম নিরাপদ থাকবে, কিন্তু বাস্তবে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

এটি আসলে একটা ‘নিরাপত্তা হীনতার’ কারখানা। দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলে সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মানুষের মুখে বিষ তুলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ দেখার যেনো কেউ নেই।​

শুক্রবার (২২মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের সামনের কড়াইয়ে থাকা তেল চটচটে, কুচকুচে কালো আর দুর্গন্ধযুক্ত। এই একই পোড়া তেল দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ব্যবহার করে ভাজা হচ্ছে শিঙারা, সমুচা আর পুরি। চিকিৎসকদের মতে, এই পোড়া তেল মানবদেহের জন্য স্লো-পয়জন বা ধীরগতির বিষ। শুধু তাই নয়, এই ভাজাপোড়ার সাথে যে সস খেতে দেওয়া হচ্ছে, তা কোনো টমেটো দিয়ে তৈরি নয়। সস্তা কেমিক্যাল, কাপড়ের রঙ আর ঘনচিনি মিশিয়ে তৈরি এই সস মানুষের লিভার ও কিডনি ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। ​সবচেয়ে বড় জালিয়াতি চলছে দই নিয়ে। দেশের আইন অনুযায়ী যেকোনো দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও নিয়মিত ল্যাব টেস্ট বাধ্যতামূলক।

কিন্তু এই হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা স্থানে, যেখানে মাছি ভনভন করছে সেখানে বছরের পর বছর ধরে দই বানিয়ে চড়া মূল্যে বিক্রি করছে। এই হোটেলের খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানান, এই হোটেলের খাবার খেলেই পেটে গ্যাস হয়, বমি বমি ভাব হয়। বাচ্চারা এদের কেমিক্যাল সস আর শিঙারা খেয়ে ডায়রিয়া ও ফুড পয়জনিংয়ে ভুগছে। এরা নামের পাশে ‘নিরাপদ’ লিখে মূলত সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে এবং মানুষের পকেট কাটার পাশাপাশি জীবন নিয়েও ছিনিমিনি খেলছে। ​

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় পান বাজার গলির প্রথম সারিতেই এই হোটেলটি অবস্থিত হলেও অজ্ঞাত কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় এই অসাধু চক্র পার পেয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এই তথাকথিত “নিরাপদ হোটেল” সিলগালা করে মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেবিদ্বারের সচেতন মহল।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

দেবিদ্বারের নিরাপদ হোটেল’ যেনো এক প্রকাশ্য স্বাস্থ্যঝুঁকির নাম

আপডেট সময় : ০২:২২:১৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পৌরসভার নিউমার্কেট পান বাজার গলিতে অবস্থিত এক খাবারের দোকানের নাম “নিরাপদ হোটেল”। নামটা শুনলে মনে হয় এখানে খেলে বুঝি স্বাস্থ্য একদম নিরাপদ থাকবে, কিন্তু বাস্তবে এর চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো।

এটি আসলে একটা ‘নিরাপত্তা হীনতার’ কারখানা। দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলে সম্পূর্ণ অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে মানুষের মুখে বিষ তুলে দেওয়া হচ্ছে, অথচ দেখার যেনো কেউ নেই।​

শুক্রবার (২২মে) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হোটেলের সামনের কড়াইয়ে থাকা তেল চটচটে, কুচকুচে কালো আর দুর্গন্ধযুক্ত। এই একই পোড়া তেল দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ ব্যবহার করে ভাজা হচ্ছে শিঙারা, সমুচা আর পুরি। চিকিৎসকদের মতে, এই পোড়া তেল মানবদেহের জন্য স্লো-পয়জন বা ধীরগতির বিষ। শুধু তাই নয়, এই ভাজাপোড়ার সাথে যে সস খেতে দেওয়া হচ্ছে, তা কোনো টমেটো দিয়ে তৈরি নয়। সস্তা কেমিক্যাল, কাপড়ের রঙ আর ঘনচিনি মিশিয়ে তৈরি এই সস মানুষের লিভার ও কিডনি ধ্বংসের জন্য যথেষ্ট। ​সবচেয়ে বড় জালিয়াতি চলছে দই নিয়ে। দেশের আইন অনুযায়ী যেকোনো দুগ্ধজাত পণ্য তৈরি করতে বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ও নিয়মিত ল্যাব টেস্ট বাধ্যতামূলক।

কিন্তু এই হোটেল কর্তৃপক্ষ কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে স্যাঁতসেঁতে ও নোংরা স্থানে, যেখানে মাছি ভনভন করছে সেখানে বছরের পর বছর ধরে দই বানিয়ে চড়া মূল্যে বিক্রি করছে। এই হোটেলের খাবার খেয়ে প্রতিনিয়ত মানুষ অসুস্থ হচ্ছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী ক্রেতারা জানান, এই হোটেলের খাবার খেলেই পেটে গ্যাস হয়, বমি বমি ভাব হয়। বাচ্চারা এদের কেমিক্যাল সস আর শিঙারা খেয়ে ডায়রিয়া ও ফুড পয়জনিংয়ে ভুগছে। এরা নামের পাশে ‘নিরাপদ’ লিখে মূলত সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করছে এবং মানুষের পকেট কাটার পাশাপাশি জীবন নিয়েও ছিনিমিনি খেলছে। ​

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় পান বাজার গলির প্রথম সারিতেই এই হোটেলটি অবস্থিত হলেও অজ্ঞাত কারণে এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। নিয়মিত তদারকি ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান না থাকায় এই অসাধু চক্র পার পেয়ে যাচ্ছে। অবিলম্বে এই তথাকথিত “নিরাপদ হোটেল” সিলগালা করে মালিকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন দেবিদ্বারের সচেতন মহল।