ঢাকা ০৫:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ব্রেকিং নিউজ ::
কুমিল্লা আইডিয়াল কলেজে একাদশ শ্রেণির ওরিয়েন্টেশন ক্লাস অনুষ্ঠিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি স্ত্রী হত্যা মামলায় জেল খাটেন স্বামী, ১২ বছর পর সেই মৃত স্ত্রী জীবিত উদ্ধার তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণ দেবে সরকার, আবেদনে যেসব কাগজপত্র লাগবে রোটারী ক্লাব অব কুমিল্লা রয়েলের আছিয়া গণি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপন ও বিতরণ বেবি পাউডারে ক্যানসারের ঝুঁকি, মামলা সরাতে ৬৮ হাজার কোটি টাকা দিতে রাজি জনসন্স সিংগাইর গ্রাম আদালত পরিদর্শনে যুগ্ম সচিব ড. কাজী শাহজাহান, কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ পাটগ্রামে মাদরাসা শিক্ষকের ওপর হামলা ও আটক রাখার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন গোদাগাড়ীর শীর্ষ ২০ মাদক কারবারি: কোটি টাকার সম্পদ ও বিলাসী জীবন রসুলপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কাউটের দীক্ষা অনুষ্ঠিত

সাবেক আইজিপি শহীদুলের বস্তাভর্তি হাজার কোটি টাকার আলামত জব্দ

হাবিবা বদরুন্নেসা জুই
  • আপডেট সময় : ০৮:৪০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / ৯৮৪৩ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের বার্তা অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দুই বস্তা আলামত জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহীদুলের আত্মীয়র বাসা থেকে ওই আলামতগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, গতকাল মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম শহীদুল হকের এক আত্মীয়র বাসায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে দুটি বস্তায় মোট ৩৮ প্রকৃতির ৪৮টি আলামত পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে বিপুল মূল্যমানের সম্পদের দলিল, বিভিন্ন গোপনীয় চুক্তিপত্র, ডিড অব অ্যাগ্রিমেন্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বন্ড, এফডিআর, সংঘ স্মারক, অফার লেটার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী ইত্যাদি।

দুদক জানায়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক অসাধু উপায়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, এ অভিযোগে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের এক পর্যায়ে দুদক গোয়েন্দা তথ্য পায় যে, শহীদুল হক তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য সম্বলিত নথিপত্র তার একজন নিকট আত্মীয়ের কাছে দুটি বস্তায় ভরে প্রেরণ করেছেন।

গোয়েন্দা তথ্যে আরো জানা যায় যে, উক্ত নথিপত্র গোপন রাখার জন্য এক আত্মীয়র কাছ থেকে অপর এক আত্মীয়ের বাসায় প্রেরণ করেছেন। এসব নথিপত্রে শহীদুল হকের বেআইনিভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।

এর আগে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ফাউন্ডেশনের নামে ৭২টি ব্যাংক হিসাবে ৫৬০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পায় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। যার প্রতিবেদন দুদকে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করা শহীদুল হক, তার স্ত্রী শামসুন্নাহার রহমান এবং তাদের তিন সন্তানের নামে ৭২টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মজিদ-জরিনা ফাউন্ডেশনের একাধিক হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব হিসাবে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা জমা হয়, যার মধ্যে ৫৫০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ স্থিতি ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে শহীদুল হককে গ্রেপ্তার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।

নিউজটি শেয়ার করুন

ট্যাগস :

সাবেক আইজিপি শহীদুলের বস্তাভর্তি হাজার কোটি টাকার আলামত জব্দ

আপডেট সময় : ০৮:৪০:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হকের হাজার কোটি টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের দুই বস্তা আলামত জব্দ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাতে শহীদুলের আত্মীয়র বাসা থেকে ওই আলামতগুলো উদ্ধার করা হয়েছে বলে দুদকের জনসংযোগ দপ্তর নিশ্চিত করেছে।

এ বিষয়ে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বলেন, গতকাল মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সহকারী পরিচালক রাকিবুল হায়াতের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি টিম শহীদুল হকের এক আত্মীয়র বাসায় তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করে। তল্লাশিকালে দুটি বস্তায় মোট ৩৮ প্রকৃতির ৪৮টি আলামত পাওয়া যায়। যার মধ্যে রয়েছে বিপুল মূল্যমানের সম্পদের দলিল, বিভিন্ন গোপনীয় চুক্তিপত্র, ডিড অব অ্যাগ্রিমেন্ট, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, বন্ড, এফডিআর, সংঘ স্মারক, অফার লেটার, ব্যাংক হিসাব বিবরণী ইত্যাদি।

দুদক জানায়, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ কে এম শহীদুল হক অসাধু উপায়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, এ অভিযোগে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। অনুসন্ধান কার্যক্রমের এক পর্যায়ে দুদক গোয়েন্দা তথ্য পায় যে, শহীদুল হক তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য সম্বলিত নথিপত্র তার একজন নিকট আত্মীয়ের কাছে দুটি বস্তায় ভরে প্রেরণ করেছেন।

গোয়েন্দা তথ্যে আরো জানা যায় যে, উক্ত নথিপত্র গোপন রাখার জন্য এক আত্মীয়র কাছ থেকে অপর এক আত্মীয়ের বাসায় প্রেরণ করেছেন। এসব নথিপত্রে শহীদুল হকের বেআইনিভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকার সম্পদের তথ্য রয়েছে।

এর আগে সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক ও তার স্ত্রী-সন্তান এবং তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন ফাউন্ডেশনের নামে ৭২টি ব্যাংক হিসাবে ৫৬০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পায় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। যার প্রতিবেদন দুদকে পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত আইজিপির দায়িত্ব পালন করা শহীদুল হক, তার স্ত্রী শামসুন্নাহার রহমান এবং তাদের তিন সন্তানের নামে ৭২টি ব্যাংক হিসাবের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন মজিদ-জরিনা ফাউন্ডেশনের একাধিক হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব হিসাবে ২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ৫৬০ কোটি ২৮ লাখ টাকা জমা হয়, যার মধ্যে ৫৫০ কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ স্থিতি ছিল ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা। গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে শহীদুল হককে গ্রেপ্তার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী।